
অনলাইনে কম দামে ইলিশ ব্যবসার ‘ফাঁদ’, ২ প্রতারক আটক
মেহেদী হাসান বাপ্পী, বরিশাল
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬

গবাদিপশুর গোবর থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাস। ছবি: সময় সংবাদ
প্রচলিত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে সম্ভাবনা তৈরি করছে গবাদিপশুর গোবর থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাস। পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তিতে একদিকে যেমন রান্নার জ্বালানি মিলছে, অন্যদিকে কমছে গবাদিপশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি পর্যায়েও বাড়ছে বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণের তৎপরতা। এরইমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে স্থাপন করা হয়েছে ৮১টি বায়োগ্যাস প্লান্ট। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পিতভাবে এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়া গেলে গ্রামীণ পর্যায়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বায়োগ্যাস।
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহায়তায় বরিশাল নগরীর হরিনাফুলিয়ায় প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫০ ঘনফুট ধারণক্ষমতার একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেন খামারি শাহ আলম। তার খামারের চারটি গরুর গোবর থেকে উৎপাদিত গ্যাস ব্যবহার করে স্থানীয় পাঁচটি পরিবারে রান্নার জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পরিবারগুলো ২৪ ঘণ্টাই গ্যাসের সুবিধা পাচ্ছে।
বায়োগ্যাস প্লান্টের মালিক শাহ আলম বলেন, ‘গরুর গোবর আগে বর্জ্য হিসেবে পড়ে থাকত। এখন সেই গোবর থেকেই গ্যাস উৎপাদন করে নিজের পরিবারের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি পরিবারকে সরবরাহ করতে পারছি। এতে জ্বালানি খরচ অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে গোবরের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে। নিয়মিত গোবর সরবরাহ ও প্লান্টের পরিচর্যা করতে পারলে দীর্ঘদিন এই সুবিধা পাওয়া সম্ভব।’
বায়োগ্যাসের ভোক্তা আসলাম হোসেন বলেন, ‘আগে রান্নার জ্বালানির জন্য আলাদা খরচ করতে হতো। এখন বায়োগ্যাস পাওয়ায় সেই খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, গ্যাসের জন্য বাইরে থেকে সিলিন্ডার আনা কিংবা সরবরাহের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। নিয়মিত গ্যাস পাওয়ায় রান্নার কাজও সহজ হয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক প্রযুক্তি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বায়োগ্যাস হতে পারে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির কার্যকর উৎস। গবাদিপশুর গোবর থেকে উৎপাদিত এ গ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্লান্ট থেকে পাওয়া জৈব অবশিষ্টাংশ কৃষিজমিতে সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ফলে একই সঙ্গে জ্বালানি উৎপাদন ও কৃষির উপযোগী জৈব সার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের বরিশাল কার্যালয়ের আয়াত উর রহমান বলেন, ‘বায়োগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি প্রযুক্তি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় গবাদিপশুর খামার রয়েছে, সেখানে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। গোবর থেকে গ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে রান্নার জ্বালানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সহজ হয়। প্লান্টের অবশিষ্ট জৈব উপাদান জমিতে সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ফলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষি ও অর্থনৈতিকভাবেও উপকৃত হতে পারেন উদ্যোক্তারা। এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।’
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের বায়োগ্যাস প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যে ৮১টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত খামার ও গ্রামীণ পর্যায়ে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় চাহিদা, গবাদিপশুর সংখ্যা ও উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বিবেচনায় আরও প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে মানুষকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।’
এদিকে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবাদিপশুর গোবরসহ জৈব বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে বায়োগ্যাস উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা গেলে পরিবারগুলো নিজস্ব উদ্যোগে রান্নার জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে পারবে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় কমবে এবং পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস পাবে। এ জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।’