
হাতে কাচের টুকরা রেখেই সেলাই, ধরা পড়ল এক মাস পর!
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৭

নিহত ইখতারা সরকার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিন সন্তানের জননী ইখতারা সরকার (৩০) মারা গেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহত গৃহবধূ ইখতারা আশুগঞ্জ উপজেলার চর চারতলা গ্রামের ঈদন সরকারের মেয়ে। তার স্বামী জাহাঙ্গীর মিয়ার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর ধরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন জাহাঙ্গীর। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো। স্ত্রীকে মারধরও করতেন তিনি। একপর্যায়ে দেড় মাস আগে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে দুই বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন ইখতারা।
স্বজনদের ভাষ্য, ঘটনার আগের দিন শুক্রবার ছোট ছেলেকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে আসেন জাহাঙ্গীর। এ সময় স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন ৩১ অক্টোবর ভোরে ইখতারার মা ফজরের নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হলে সেই সুযোগে ঘরে প্রবেশ করেন জাহাঙ্গীর। পরে বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ইখতারার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
ইখতারার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ইখতারার গলা, কণ্ঠনালিসহ শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে যায়। প্রথমে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।