
যেখানে চিকিৎসক দরকার সেখানেই পোস্টিং হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রতিবেদক, মোংলা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫

মোংলায় জমি দখল নিয়ে হামলায় আহত ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
মোংলায় দাবিকৃত চাঁদা না দেয়া এবং পৈতৃক জমি দখলে বাধা দেয়ায় এক নারীসহ একই পরিবারের ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের পাশাপাশি থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার মিঠাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম দত্তেরমেঠ টাটিবুনিয়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা বর্তমানে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মোংলা থানায় উভয় পক্ষই পৃথক দুটি অভিযোগ দিয়েছে।
আহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাটিবুনিয়া এলাকায় বসতভিটাসহ প্রায় চার একর পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ঘের ও মাছ চাষ করে ভোগদখল করে আসছিলেন ভুক্তভোগীরা। গত পাঁচ-সাত বছর ধরে সেখানে তাঁরা স্থায়ী বাড়িঘর নির্মাণ করে সপরিবারে বসবাস করছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই ওই সম্পত্তির ওপর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের নজর ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কামাল ইজারাদার, ফজলু শেখ, আসাদ মল্লিক, হারুন শেখ ও মনোজ কুমার মণ্ডলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে আল মামুন শেখের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে পুরো ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আল মামুন শেখ (৩৫), সালমা বেগম (৪০), চঞ্চল মণ্ডল (৩৬), তন্নি বেগম (২৩), নাজমা (৪২) ও মিজুকে (২৩) গুরুতর জখম করা হয়। আহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে মোংলা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘জমির মালিকানা ও হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তসাপেক্ষে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’