
দুই বছরেও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া ২১ আগ্নেয়াস্ত্র, ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা
মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩

খুলনা-মোংলা মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের ইঞ্জিনের চেসিসের ভেতর অভিনব কায়দায় লুকিয়ে পাচারের সময় রেকর্ড পরিমাণ ১২০ কেজি গাঁজাসহ সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে র্যাব-৬।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে মোংলা উপজেলার ব্রাহ্মণমাঠ এলাকায় মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- পারভেজ, নূর আমিন এবং আমিনুর রহমান। তাঁদের সবার বাড়ি রংপুর জেলার সদর থানা এলাকায়। তারা দূরপাল্লার বাসের চালক, হেলপার ও পেশাদার মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য।
র্যাব-৬ (খুলনা) সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ঢাকার কাঁচপুর থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজার একটি বড় চালান নিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ হয়ে মোংলার দিকে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ব্রাহ্মণমাঠ এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ওত পেতে থাকে।
র্যাব-৬ এর উপপরিচালক (স্কোয়াড কমান্ডার ও মিডিয়া অফিসার) সৈয়দ ফজলুর রহমান জানান, গভীর রাতে সন্দেহভাজন বাসটি পৌঁছালে সেটিকে থামানো হয়। প্রথমে বাসের চালক ও হেলপার মাদক পরিবহনের কথা অস্বীকার করলেও র্যাবের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারা ইঞ্জিনের চেসিসে মাদক লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যে বাসের নিচের দিকে ইঞ্জিনের চেসিসের ভেতর থেকে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ৬টি বড় কার্টুন উদ্ধার করা হয়। কার্টুনগুলো তল্লাশি করে সর্বমোট ১২০ কেজি অবৈধ গাঁজা জব্দ করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত যাত্রীবাহী বাসটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা সাধারণ যাত্রী পরিবহনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিল। এই নির্দিষ্ট বাসে করে আগেও একাধিকবার গাঁজার বড় চালান পাচার করা হয়েছে। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
জব্দকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা। আটক আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরপূর্বক মোংলা থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।