
৩৫ বছরেও সেন্টমার্টিনে চালু হয়নি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৩৮

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০ থেকে ৮০০ এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৪০০ রোগী চিকিৎসা নেন। ছবি: সময় সংবাদ
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করেও মিলছে না চিকিৎসকের সাক্ষাৎ। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে বরাদ্দকৃত ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, মিলছে না পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধাও।
প্রতিদিন জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেককে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকের কক্ষ প্রায়ই তালাবদ্ধ থাকে। যেসব চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপে তারাও যথাযথ সময় দিতে পারেন না। আবার দুপুরের মধ্যেই অনেক চিকিৎসক চলে যান বলে অভিযোগ তাদের। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।
হাসপাতালের সরবরাহ তালিকায় ওষুধের নাম থাকলেও রোগীদের তা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আবতাফ আলী বলেন, ‘এর আগেও দুই দিন এসে টিকিট নিয়েও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজও এসে ফিরে যাচ্ছি, ডাক্তার নেই। দুই দিনে প্রায় ২০০ টাকার বেশি খরচ হলো, কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারলাম না।’
সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরের রেখা বেগম বলেন, ‘নিজে মেডিসিনের ডাক্তার ও ছেলেকে দাঁতের ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছিলাম। কিন্তু দুটি কক্ষই তালাবদ্ধ। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেও ফিরে যাচ্ছি। ডাক্তার তো পেলামই না, উল্টো সারাদিন হয়রানি হতে হলো।’
শুধু বহির্বিভাগ নয়, ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরও। শয্যা না পেয়ে অনেককে বারান্দা ও সিঁড়ির নিচে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাম, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের একই জায়গায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন রোগী ও স্বজনরা।
প্রয়োজনীয় ওষুধের অধিকাংশই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বোয়ালী এলাকার ভর্তি রোগী আলমউদ্দিন বলেন, ‘বেড না পেয়ে তিন দিন ধরে মেঝেতে শুয়ে কোনোরকমে চিকিৎসা নিচ্ছি। দিনে একবার ডাক্তার আসেন। তিনি যা লিখে দেন, তা দোকান থেকে কিনতে হয়। দুটি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, সেগুলোও বাইরে থেকে করিয়েছি। সরকারি হাসপাতাল শুধু নামেই, এখানে চিকিৎসা ও সুবিধা কোনোটাই নেই।’
রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ রহমান। তিনি বলেন, ১০০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করতে হচ্ছে। এর ওপর ১০০ শয্যার অনুমোদিত জনবলের মধ্যেও চিকিৎসকসহ প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। ১০০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে ২০৮টি পদ থাকার কথা। এর মধ্যে চোখ, ডেন্টাল, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, চর্মরোগ বিভাগ ও মেডিকেল অফিসারসহ বিভিন্ন পদে ৪৮ জন চিকিৎসকসহ মোট ৭৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০ থেকে ৮০০ এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৪০০ রোগী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল, শয্যা ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতিতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি।