
তাহসিফ হত্যা মামলায় ফের রিমান্ডে দীপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৭

ছবিটি ভিডিও থেকে নেয়া
ন্যূনতম বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আজও রাজধানীর মিরপুর-১১ এর সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ করছেন পোশাক শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সকালে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, তারা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে বকেয়া ও ন্যূনতম বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাসড়কের নাওজোর এলাকায় তারা এ কর্মসূচি শুরু করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সকালে চন্দ্রাপল্লী বিদ্যুৎ মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা চালান আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের সেখান থেকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শ্রমিকরা নাওজোর এলাকায় গিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন।
এদিকে কোনাবাড়ী এবং মৌচাকেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা।
এদিকে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে গাজীপুরে আলাদা তিনটি মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) কোনাবাড়ী, বাসন ও কালিয়াকৈড় থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করে। তিন মামলায় মোট ৩ হাজার ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।
দুই সপ্তাহ ধরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আসছেন। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের পুনর্বাহাল ও আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে গতকালও সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।
সোমবার সারা দেশে ৬৭০টি কারখানা বন্ধ হয়ে পড়েছিল এবং প্রায় ১৭ লাখ শ্রমিক কাজ না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠক হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে সরকার রফতানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
এর আগে তৈরি পোশাকশিল্পে সর্বশেষ নিম্নতম মজুরি বোর্ড হয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর মজুরি কাঠামো কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। ২০২৩ সালের মজুরি বোর্ড ছয়টি সভা করে ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরির সুপারিশ করেছিল। এরপর ডিসেম্বরে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। তবে শ্রম আইন সংশোধন হওয়ার পর নাকি, আগে থেকে তিন বছরের সময় গণনা করা হবে তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ভিন্নমত ছিল। যদিও শ্রমিক আন্দোলনের মুখে সেই ভিন্নমত টেকেনি।
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রথমবার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই বোর্ড ৯৩০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। ২০০৬ সালে সেটি বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়। ২০১০ সালের মজুরি বোর্ডে শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ৩ হাজার টাকা করা হয়। ২০১৩ সালের মজুরি বোর্ড ৫ হাজার ৩০০ টাকা নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের জন্য ৮ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি চূড়ান্ত করে। তার মধ্যে মূল মজুরি ৪ হাজার ১০০ টাকা।