
ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন
প্রতিবেদক, যশোর
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:১৪

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন (বাঁয়ে) দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটানো হয়।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলনকারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখভাগে নির্মিত জুলাই স্তম্ভে আগুন দেয়ার একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পুলিশ জানিয়েছে, একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন দুষ্কৃতকারী সেখানে পলিথিন ও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে স্তম্ভটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও কালচে বর্ণ ধারণ করে। ঘটনার পরপরই অপরাধীরা প্যারিস রোড দিয়ে পালিয়ে যায়।
স্মৃতিস্তম্ভটি অদূরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশাপাশি মাত্র ৫০ গজের মধ্যে পুলিশ বক্স থাকতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক রাশেদ খান বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শুনে জুলাই স্তম্ভে এসেছি। আসলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানটা কোনো নির্দিষ্ট একক দলের কৃতিত্ব না। এটা ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং ছাত্র-জনতার এই গণ-অভ্যুত্থান ইতিহাসেরই একটা অংশ। আমাদের জাতীয় ইতিহাসেরই একটা অংশ। সেই ইতিহাসকে যারা মুছে ফেলতে চায়, ইতিহাসের স্মারকগুলোতে আগুন দিয়ে যারা মনে করে যে ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে, তারা আসলে ভুল করছে। কারণ পাকিস্তান আমলেও শহীদ মিনারে অসংখ্যবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগুন দেয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ধ্বংস করতে পারেনি। এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কতৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে একটা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই ইতিহাসকে যারা মুছে ফেলতে চায়, তারাই ইতিহাসের গহ্বরে হারিয়ে যাবে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক ফাহিম আল ফাত্তাহ বলেন, এই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এর মাত্র ৫০ গজ গজের ভেতরে পুলিশ বক্স রয়েছে, পাশেই জেলা প্রশাসকের অফিস এবং কিছু দূরই পুলিশ সুপারের কার্যালয় অবস্থিত। এ রকম একটি স্থানে আগুন দেয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ন্যায় বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সুশাসন যদি প্রতিষ্ঠিত হত, তাহলে শহরের এ রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাত্র দুই বছরের মাথায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার সাহস কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী করত না। এটা আমাদের জন্য চরম উদ্বেগজনক এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব পর্যায়ে ছিলেন, তাদের জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনা একটাই বার্তা দেয়, পতিত স্বৈরাচারী গোষ্ঠী তাদের সিদ্ধান্তে এখনো অটুট। তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধী অবস্থানে ছিল, এখনো আছে। বর্তমান প্রশাসন, সরকারের ব্যর্থতায় তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। ফ্যাসিস্ট ও তার সহযোগী যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারলে আজকে তারা এই ধৃষ্টতা দেখাতে পারত না।
যশোর যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিলন শেখ বলেন, এ আগুনটা আসলে শুধু এই জুলাই বিজয় স্তম্ভে না, এই আগুনটা আমাদের গায়ে দিয়েছে। এ আগুন যারা দিয়েছে, তাদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আমরা জুলাই আন্দোলনের অংশীদার আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাব। তবে আমরা এই মুহূর্তে যেটা জানাতে চাই, প্রশাসন যদি এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে জুলাইয়ের আন্দোলনকারীরা আবারও রাজপথে নেমে আসবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে রাতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।