
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান চীনা মন্ত্রীর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মানিক মিয়া হত্যা মামলার তিন আসামিকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। ছবি: সময় সংবাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চাঞ্চল্যকর মানিক মিয়া হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এই রায়ের ঘোষণা দেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: কসবা নিমবাড়ী এলাকার মো. মোতার মিয়া এবং তার দুই ছেলে মো. মনির মিয়া, মো. কামাল মিয়া। তবে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মো. কামাল মিয়া রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
অন্যদিকে এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ছয় আসামিকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়।
খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: মো. নবীর হোসেন, মো. রুবেল মিয়া, মো. শরীফ মিয়া, মনোয়ারা বেগম প্রকাশ মিনু, জিয়াছমিন এবং খাদিজা বেগম। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের নির্দোষ সাব্যস্ত করে খালাস দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে মানিক মিয়া কসবা উপজেলার তন্তর বাজার থেকে বাসায় ফেরেন। এ সময় জরুরি কাজের কথা বলে তার চাচি মাহমুদা বেগম তাকে ডেকে নেন। পরে তার চাচা মোতাহার মিয়া ও চাচাতো ভাইসহ আসামিরা মানিক মিয়ার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।
পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মানিক মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পড়ে এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ঘটনার পরের দিন ১১অক্টোবর ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি অধিক তদন্ত করে কসবা থানা পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে মামলাটি দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক আজ এই রায় ঘোষণা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফখর উদ্দিন আহমেদ খান ও অ্যাডভোকেট মো. নজির আহাম্মদ (অ্যাডিশনাল পিপি) এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সারওয়ার-ই- আলম ও অ্যাডভোকেট মো. মফিজুর রহমান (বাবুল)।
উভয় পক্ষের আইনজীবী জানান, এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে জানান তারা।