
রামপুরায় স্লুইস গেটের কাছে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার
প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৪

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনা নিহত শহিদুল ইসলাম ও তার মেয়ে তাসমিয়া বেগম। ছবি: সংগৃহীত
পূজার ছুটিতে ভায়রার বাড়িতে রাজশাহী বেড়াতে যাওয়ার পথে নাটোরের বনপাড়ায় বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার এক পরিবারের বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন: মির্জাগঞ্জ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৪৮) ও তার মেয়ে তাসমিয়া বেগম (৮)। শহিদুল ইসলাম মাগুরায় ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
আহতরা হলেন: তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার, যিনি পটুয়াখালীর সুবিদখালী পূবালী ব্যাংকে চাকরি করেন, এবং তাদের ১২ বছর বয়সি ছেলে লাবিব।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূজার ছুটিতে রাজশাহীতে ভায়রার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী থেকে বাসে ওঠেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও তাদের দুই সন্তান। আর চাকরির কারণে মাগুরায় অবস্থান করায় সেখান থেকে বাসে ওঠেন শহিদুল ইসলাম। পরে নাটোরের বনপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বালুবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই শহিদুল ইসলাম ও তার ৮ বছরের মেয়ে তাসমিয়া বেগমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা আক্তার ও তাদের ছেলে লাবিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
নিহত শহিদুল ইসলামের বড় ভাই ফারুক হাওলাদার বলেন, ‘গতকাল বিকেল চারটার দিকে পটুয়াখালী থেকে আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আমার ভাই মাগুরায় চাকরি করায় সেখান থেকে বাসে ওঠে। বনপাড়ায় গিয়ে বাসটি বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়ে। ঘটনাস্থলেই আমার ভাই ও তার ছোট মেয়ে মারা যায়। ভাইয়ের স্ত্রী ও বড় ছেলে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু জাফর বলেন, চাকরির কারণে শহিদুল জেলার বাইরে থাকতেন। ছুটি পেলেই পটুয়াখালীতে পরিবারের কাছে ছুটে আসতেন। আজকের দুর্ঘটনায় তাদের পুরো পরিবারটি যেন শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। শহিদুল ও তার মেয়ে নিহত হয়েছে, আর বাকি দুজনও মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’
বাবা-মেয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মির্জাগঞ্জের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একই পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।