
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজে ন্যাশনাল সায়েন্স কার্নিভালের উদ্বোধন

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট নেই। ছবি: সময় সংবাদ
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে চুয়াডাঙ্গার তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন কার্যক্রম। অস্ত্রোপচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্টের পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ না পেয়ে অনেকে বাধ্য হচ্ছেন বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে। আবার অর্থের অভাবে অনেকের পক্ষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জামও।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম। ফলে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবার সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই চিকিৎসা করাতে পারছেন না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা তাদের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজন অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট। কিন্তু এ পদ শূন্য থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন। দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটার ব্যবহার না করায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে এবং সেগুলোর কিছু ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক কনসালটেন্টের পদ শূন্য রয়েছে। দামুড়হুদায় অ্যানেসথেসিয়া, সার্জারি ও অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট নেই। অন্যদিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব পদের পাশাপাশি গাইনি কনসালটেন্টের পদও শূন্য রয়েছে। সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিক সমস্যায় প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক রোগী এসব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলেও অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাচ্ছেন না।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের রোগী হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। কারণ, এখানে কম খরচে ওষুধ ও অপারেশন করানো সম্ভব। আমাদের পক্ষে বাইরে ক্লিনিকে অপারেশন করানো ও চিকিৎসক দেখানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে রোগ শরীরে পুষে রাখতে হয়। অপারেশন করার জন্য অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক নেই। তাহলে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কীভাবে চলছে?’
আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে পেটে ব্যথা অনুভব করছিলেন। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানোর পর জানতে পারি, তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে জানানো হয়, সেখানে এখন অপারেশন বন্ধ। এত টাকা খরচ করে কীভাবে স্ত্রীর অপারেশন করাব? আবার সংসারই বা কীভাবে চালাব?’
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দেয়া গেলে এ সংকটের সমাধান হতে পারে। চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে জনবলসংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য রয়েছে। অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ছাড়া কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়। এ কারণে বাধ্য হয়ে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। শূন্য পদগুলোর বিপরীতে জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অ্যানেসথেসিয়ার পাশাপাশি সার্জারি, গাইনি ও অর্থোপেডিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ কনসালটেন্ট পদও শূন্য রয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব হবে।