
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬

চালু হয়নি ঝিনাইদহের ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ছবি: সময় সংবাদ
আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, শয্যা ও ব্যাকআপ জেনারেটর–সবই আছে। চিকিৎসক ও অন্য কর্মীদের থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে সুসজ্জিত ডরমিটরিও। কিন্তু প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আট বছরেও নিয়োগ পাননি কোনো চিকিৎসক। ফলে ঝিনাইদহের চারটি ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এখন স্রেফ খালি ভবনে পরিণত হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ও কাঁচেরকোল, সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় এই চারটি ১০ শয্যার কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও চিকিৎসক সংকটে কেন্দ্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ সেবা এক দিনের জন্যও চালু করা সম্ভব হয়নি।
গর্ভবতী মায়েরা যাতে নিজ এলাকায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারসহ জরুরি প্রসবকালীন সেবা পান এবং শিশুরা সহজে চিকিৎসা সুবিধা পায়, সেই লক্ষ্যেই নির্মিত হয়েছিল এই কেন্দ্রগুলো। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সরকারের এই মহতী উদ্যোগের কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুধসর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের এলাকার মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য এত বড় হাসপাতাল করা হলো। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় আমরা কোনো চিকিৎসা পাই না। গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রসবকালীন সেবার জন্য দূরের হাসপাতালে ছুটে যেতে হয়।’
একই গ্রামের রাশিদা বেগম বলেন, ‘গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রটি খুবই উপকারে আসত। ভবন আছে, আধুনিক শয্যা আছে, শুধু ডাক্তার নেই। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে এটি চালু করা হোক।’
কাঁচেরকোল গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বলেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করে অবকাঠামো গড়ে তুলে এভাবে ফেলে রাখা অপচয়ের শামিল। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালগুলো চালু করা হলে তৃণমূলের হাজারো মানুষের ভোগান্তি কমত।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম জানান, কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার আন্তরিক চেষ্টা রয়েছে। তবে মূল বাধা চিকিৎসক সংকট। প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করা হলেই কেন্দ্রগুলোতে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হবে।