
ফের সড়ক অবরোধের ডাক, পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার অনুরোধ
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৩

ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিসসহ সাতটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের এককালীন এক লাখ টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নীতিমালার খসড়া পরিমার্জন করে সম্প্রতি ‘ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদ্রোগ, লিউকেমিয়া এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬ (সংশোধিত)’ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সমাজসেবা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে এই সংশোধিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় এই সহায়তা দেয়া হবে। দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের ব্যয়বহুল চিকিৎসার বোঝা কমানো এবং আক্রান্ত পরিবারের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা রোধ করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশোধিত নীতিমালার আওতায় নিম্নলিখিত সাতটি ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীরা সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন:
১. ক্যানসার: কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা সার্জারি প্রয়োজন এমন সব ধরনের ক্যানসার।
২. কিডনি রোগ: নিয়মিত ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন এমন ক্রনিক কিডনি ডিজিজ।
৩. লিভার সিরোসিস: লিভার প্রতিস্থাপন বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল চিকিৎসাধীন রোগী।
৪. প্যারালাইসিস: নিউরোডেভেলপমেন্টাল, স্ট্রোকজনিত কিংবা দুর্ঘটনাজনিত পঙ্গুত্ব।
৫. হৃদ্রোগ: জন্মগত হৃদ্রোগ (কার্ডিয়াক সার্জারি/ডিভাইস ক্লোজার) এবং রিং পরানো, বাইপাস, পেসমেকার সংযোজন বা ভাল্ব প্রতিস্থাপন প্রয়োজন এমন জটিল হৃদ্রোগ।
৬. লিউকেমিয়া: রক্ত ক্যানসার বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাধীন রোগী।
৭. থ্যালাসেমিয়া: নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও ব্যয়বহুল চিকিৎসায় থাকা রোগী।
আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পাশাপাশি যাদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, জীবনঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি এবং শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, একজন রোগী একই অর্থবছরে একবার এবং পুরো জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এই সহায়তা পেতে পারেন। তবে ভুল বা ভুয়া তথ্য প্রদান, জাল কাগজপত্র জমা দেয়া কিংবা সরকারের অন্য কোনো খাত থেকে একই বিষয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
অনলাইনে এবং সরাসরি আবেদনের ক্ষেত্রে নিচের কাগজপত্র ও প্রমাণক প্রস্তুত রাখতে হবে:
* রোগী এবং (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
* ১৮ বছরের কম বয়সি রোগীর ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
* রোগী ও অভিভাবকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
* মনোনীত নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি।
* সুবিধাভোগী বা অভিভাবকের নামের তফসিলি ব্যাংকের হিসাব নম্বর ও ব্যাংকের চেক বইয়ের কভার পাতার ফটোকপি।
* সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিল ও স্বাক্ষরসহ হালনাগাদ ব্যবস্থাপত্র এবং প্রত্যয়নপত্র।
রোগ শনাক্তকরণের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যয়নসহ নির্দিষ্ট টেস্ট রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। ক্যানসারের জন্য বায়োপসি বা হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্ট, কিডনি রোগের জন্য ইউরিয়া-ক্রিয়াটিনিন ও ডায়ালাইসিস সনদ, লিভার সিরোসিসের জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম বা ফাইব্রোস্ক্যান, প্যারালাইসিসের জন্য এমআরআই বা সিটি স্ক্যান, হৃদ্রোগের জন্য এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং থ্যালাসেমিয়া বা লিউকেমিয়ার জন্য হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস ও বোনম্যারো রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
প্রথমে সমাজসেবা অধিদফতরের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি এবং আবেদনের মূল প্রিন্ট কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, শহর সমাজসেবা কার্যালয় কিংবা সরকারি হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরাসরি জেলা, উপজেলা বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদফতর।