
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় রাজনৈতিক মহল: শ্রমমন্ত্রী
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। ছবি: সময় সংবাদ
পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢোকার চেষ্টা করছেন বন্দিরা। গত কয়েক মাসে কমপক্ষে ৩০ জনকে এভাবে ইয়াবা পাচারের চেষ্টায় শনাক্ত করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ। একজনের পেট থেকে সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ অবস্থায় পেটের ভেতরে ক্যাপসুল ফেটে প্রাণহানির আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কতা জারির পাশাপাশি তিন স্তরের তল্লাশি জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
কারাগারের প্রবেশপথে চলছে বন্দিদের কঠোর দেহ তল্লাশি। মুখের ভেতর থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। একবার নয়, প্রতিটি বন্দিকে ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফায় তল্লাশি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদালত থেকে কারাগারে আসা বন্দিদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। মূলত কারাগারের ভেতরে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতেই এ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ বলেন, আসামিরা ইয়াবা খেয়ে পেটের ভেতরে নিয়ে আসেস। এ ছাড়া মলদ্বারসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়েও এ কাজ করছেন তারা। যে কোনোভাবে মাদক কারাগারের ভেতরে নিয়ে গিয়ে সেবনের সুযোগ নিতে চান তারা।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তল্লাশি করায় বন্দিদের পেটের ভেতরে থাকা ইয়াবার চালান শনাক্ত করা কঠিন। এরপরও গত কয়েক মাসে অন্তত ৩০ জনের থেকে কয়েক হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
কালো টেপে মোড়ানো প্রতিটি ক্যাপসুলে থাকে ৫০ পিস ইয়াবা। একজন বন্দি এক থেকে সর্বোচ্চ ১৫টি পর্যন্ত ক্যাপসুল পেটের ভেতরে নিয়ে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব ক্যাপসুল পেটের ভেতরে ফেটে গেলে বন্দির প্রাণহানিও ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এ ধরনের মাদক শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন। তারপরও কারাগারের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে তিন স্তরে তল্লাশি করা হচ্ছে। পেটের ভেতরে থাকা একটি ইয়াবার ক্যাপসুলও ফেটে গেলে সংশ্লিষ্ট বন্দির মৃত্যু নিশ্চিত।
বড় চালান জব্দের ঘটনায় থানায় মামলা করা হচ্ছে। তবে ছোট চালানের ক্ষেত্রে কারাবিধি অনুযায়ী বন্দিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ বলেও জানা গেছে।
২ হাজার ২০০ জন ধারণক্ষমতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ৭ হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আসামি অন্তত সাড়ে ৩ হাজার। কারা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এ কারণেই কারাগারের ভেতরে মাদক পাচারের চেষ্টা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাদক মামলার আসামিদের জন্য পৃথক কারাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক আইনের মামলার আসামিদের জন্য আলাদা কারাগার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে জানানো হয়।
কারা অধিদফতরের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. ছগির মিয়া বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দ্রুত একটি নারকোটিক কারাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। সাধারণ বন্দিদের কাছ থেকে মাদকাসক্ত ও মাদক মামলার বন্দিদের আলাদা রাখা গেলে পুনর্বাসন কার্যক্রম সহজ হবে।
সাধারণ বন্দিদের কারাগারে আনার দিনই রাতে ওয়ার্ড বা সেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে পেটের ভেতরে ইয়াবা থাকার সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের অন্তত দুই দিন আলাদা করে রাখা হয়। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় সফলতাও পাওয়া যাচ্ছে।