
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন যে তথ্য দিলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্ধার করা মাদক দ্রব্য।
ভিজিটিং কার্ড বিলি করে ক্রেতা সংগ্রহ তারপর মাদক বিক্রি। কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করলে নিয়ে যাচ্ছে সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপে। গ্রুপে অর্ডার করলে হোম ডেলিভারিতে মিলছে মাদক কুশ ও সিনথেটিক গাঁজা। অভিনব কায়দার মাদক ব্যবসার অভিযোগে সম্প্রতি ধরা পড়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ড্রপআউট শিক্ষার্থী। ডিএনসি বলছে, সিক্রেট গ্রুপ থেকে মাদক কিনছেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চারশ শিক্ষার্থী। এদিকে গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে ডিএনসি।
দেখা গেছে, ওই ভিজিটিং কার্ডটির এক পাশে লেখা ক্রেভিংস। অন্যপাশে কিউআর কোড স্ক্যান করলে আসে একটা ওয়েবপেজ। যেখানে ক্রেভিংস লেখা সিক্রেট টেলিগ্রাম পেজের লিংকও আছে। নিচে আছে ওয়েবপেজে লগইন-রেজিস্ট্রেশনের অপশন। টেলিগ্রাম গ্রুপে ঢুকতেই সাবস্ক্রাইব করার অপশন। এরপর চলে আসে অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগের অপশন। সেখানে চাহিদা মতো অর্ডার করা যায় মাদকদ্রবের।
সাইবার প্যাট্রোলিংয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) নজরে আসে সেই সিক্রেট গ্রুপটি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় খুঁজে বের করা হয় গ্রুপ অ্যাডমিনকে। এরপর রাজধানীর ভাটারায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় সাইম ইসলাম নামের ওই অ্যাডমিনকে। উদ্ধার করা হয় আধা কেজি কুশ, সিনথেটিক গাঁজা, বিপুল ভিজিটিং কার্ড ও মাদক বিক্রির আলামত।
সাইম ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে সামনে আসে পুরো চিত্র। জানা যায় গ্রেফতার সাইম ২০২৪ সালে ভর্তি হন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে। দুই বছর পর হন ড্রপআউট। আইটি সম্পর্কে জানাশোনা কাজে লাগিয়ে অভিনব কায়দায় মাদক বিক্রি শুরু করেন সাইম।
ডিএনসি জানিয়েছে, সাইমের টেলিগ্রাম গ্রুপ ক্রেভিংসে ৩৯৭ সাবস্ক্রাইবারের বেশিরভাগই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের কাছেই মাদক বিক্রি করতেন তিনি।
ডিএনসির ঢাকার বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান সময় সংবাদ বলেন, ৬ মাস ধরে মাদক বিক্রি করছিলেন তিনি এ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে। টার্গেট ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। কার্ডের মাধ্যমে টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে গিয়ে তারা একটা নিরাপদ জায়গা তৈরি করেছিলেন, মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেয়ার জন্য।
এরইমধ্যে ঢাকা বিমানবন্দরে সম্প্রতি ধরা পড়েছে বেশ কয়েকটি কুশের চালান-এ নিয়ে ডিএনসি জানিযেছে, দেশে কুশের বাজার তৈরির চেষ্টা করছে একটি আন্তর্জাতিক মাদকচক্র। সেই চক্রের কাছ থেকে সাইম কুশ কিনেছেন কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মো. মেহেদী হাসান বলেন, সেই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি আমরা শনাক্ত করেছি। দেখা গেছে ওই চ্যানেলে ২৫০ এর মতো শিক্ষার্থী আছেন। বর্তমানে সাইম ইসলামের মাধ্যমে তারা মাদক কেনাবেচা করত। মামলা মাত্র রুজু হয়েছে। কারা এর সাথে জড়িত আছেন, আরও কেউ আছে কি না তা খঁজে বের করা হবে।
গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে ডিএনসি বলেও জানান তিনি।