
যশোরে পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলে নিহত, বাবা হাসপাতালে
প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৫

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বোন বিয়ের দাওয়াত না দেওয়ার কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের হাতে এক যুবক নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ও বোনজামাই মুনসুর মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লুদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন ও অভিযুক্ত মাসুম মিয়া সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নাজিম উদ্দিনের ছোট বোন মরিয়ম আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে বোন মরিয়মের বিয়েতে মাসুম মিয়াসহ তার অন্যান্য ভাই ও স্বজনদের কেন দাওয়াত দেওয়া হয়নি, এ কারণ জানতে চান মাসুম। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাসুম মিয়া, মুনজু মিয়া, মুকিত মিয়া, সুবল মিয়া ও হোসাইন মিলে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
ঝগড়ার একপর্যায়ে মাসুম মিয়া ও তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও সুলফি নিয়ে নাজিম উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে। নাজিমকে বাঁচাতে তার স্ত্রী ও বোনজামাই মুনসুর মিয়া এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালিয়ে আহত করা হয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নাজিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত নাজিম উদ্দিন এক সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের আহত বোনজামাই মুনসুর মিয়া জানান, নাজিম উদ্দিন ও মাসুম মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই পুরোনো শত্রুতাবশতই বোনের বিয়েতে মাসুমের পরিবারকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দাওয়াত না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই সুলফির আঘাতে নাজিম উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে মাসুম ও তার ভাইয়েরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার এসআই নুর হোসেন জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও বিয়ের দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।