
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রযুক্তি হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৮

সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা (ডানে) ও কথোপকোথনকারী। ছবি: সংগৃহীত
টাকা নিয়ে মা ইলিশ ধরার অনুমতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার মনপুরার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখার বিরুদ্ধে। সন্ধ্যার মধ্যে তার সাথে চুক্তির টাকা পরিশোধ না করলে বোট (ট্রলার) পুড়িয়ে দেয়ার কথাও বলতে শোনা যায় কাজল রেখাকে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবদুর রহিমের সঙ্গে কাজল রেখার এমন কথোপকথনের একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
যেখানে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায় – ‘রহিম ভাই, শোনেন। একটা প্যাঁচ দিয়ে থুইয়া গেছেন। আমি না পারি অভিযান করতে। আমার ওপর থেকে চাপ আসতেছে। বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠাই দিয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন জ্বালাই দিমু।’
জবাবে মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম বলেন, ‘যা করেন করেন, ফরটি ফাইভ দিছি। এর মধ্যে যেভাবে হোক আপনি আমাকে সেভ কইরেন। ’ উত্তরে কাজল রেখা বলেন, ‘আমারে তো চা খাওয়ার জন্যেও দেন নাই। চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম। ’
উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন প্রিন্স অডিওটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন, ‘এই হলো গরিবের পেটে লাথি মারার অবরোধ, সবকিছু ভাগবাটোয়ারার খেলা।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খোদ উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা সাগরে মাছ ধরার দুই শতাধিক ট্রলারের প্রত্যেকটি থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্য মাছ ধরার অঘোষিত অনুমোদন দেন। তবে এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মৎস্য ব্যবসায়ী ও যুবদল সচিব হাফেজ আবদুর রহিমের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা জানান, বিষয়টি শুনেছি, সত্যতা নিশ্চিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযুক্ত সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা জানান, এইটা অনেক আগের রেকর্ড।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, বিষয়টি নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊধ্বর্তন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।