
৫০ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের হয়ে নেমেই ৭ গোল বেলিংহ্যামের বাবার
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৫৩

ফখর জামানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শহিদ আফ্রিদি। ছবি: সম্পাদিত
ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে রেকর্ড পরিমাণ রান তাড়া করে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা ঘরে রেখে দিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ের পর ফখর জামান ও উদীয়মান তারকা আরাফাত মিনহাস, হাসান নেওয়াজ এবং সাদ বেগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন দলটির সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফখর জামানকে প্রকৃত 'বিগ ম্যাচ প্লেয়ার' হিসেবে আখ্যায়িত করেন আফ্রিদি। ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরির মাধ্যমে ফর্মে ফেরেন বাঁহাতি এই ওপেনার। মাত্র ৯৯ বলে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ফখর। তার ব্যাটেই সহজ হয়ে ওঠে পাকিস্তানের জয়।
এছাড়া আরাফাত মিনহাস ও হাসান নেওয়াজের মধ্যকার জুটিরও প্রশংসা করেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। পাশাপাশি ফাইনালে সাদ বেগের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। তরুণ এই উইকেটকিপার-ব্যাটার নিজের প্রথম ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১১টি চারের সাহায্যে ৭৫ বলে করেন ৭৪ রান।
Congratulations Pakistan! Fantastic win. @FakharZamanLive has once again proven he is a genuine big match player. Brilliant partnership between Arafat and Hassan Nawaz and excellent contribution by young Saad Baig. Great performances also by @OfficialSLC and thank you to them for their participation Thank you to @englandcricket for touring and playing some outstanding cricket. This tri-series has really helped revive the ODI format
— Shahid Afridi (@SAfridiOfficial) October 31, 2026
আফ্রিদি লিখেছেন, 'অভিনন্দন পাকিস্তান! অসাধারণ জয়। ফখর জামান আবারও প্রমাণ করেছে যে সে একজন প্রকৃত বিগ ম্যাচ প্লেয়ার। আরাফাত মিনহাস ও হাসান নেওয়াজের জুটি ছিল দুর্দান্ত। পাশাপাশি তরুণ সাদ বেগও দারুণ অবদান রেখেছে।'
৪৬ বছর বয়সী আফ্রিদি শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন। সদ্য শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানে ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে এই টুর্নামেন্টের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও লিখেছেন, 'শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্সের কৃতিত্বও তাদের প্রাপ্য। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ। পাকিস্তান সফরে এসে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলার জন্য ইংল্যান্ডকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। এই ত্রিদেশীয় সিরিজ পাকিস্তানে ওয়ানডে ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে সত্যিই সহায়তা করেছে।'
ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত রান তাড়ার মাধ্যমে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৪১ ওভারে ২ উইকেটে ২৫৫ রান তুলে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায়। সেঞ্চুরিয়ান কামিন্দু মেন্ডিস ও পাভান রত্নায়েকে তখন ক্রিজে বেশ ভালোভাবে থিতু হয়েছিলেন।
তবে শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৭০ রান যোগ করতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। এ সময় ৬টি উইকেট হারায় তারা। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির পাশাপাশি পেসার হারিস রউফ ও নাসিম শাহ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
লক্ষ্য তাড়ায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ফখর জামান। ৯৯ বলে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১২৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে, সাদ বেগের ৭৪ রানের ইনিংসও জয়ের ভিত গড়ে দেয়। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ১৪৯ রানের জুটি।
এরপর শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন আরাফাত মিনহাস। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রান করেন তিনি। পরে হাসান নেওয়াজের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৯৪ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে স্মরণীয় জয় এনে দেন মিনহাস। হাসান অপরাজিত থাকেন ৪৫ বলে ৩৭ রান করে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান।