
বৃষ্টি-বাগড়ার মাঝেই ত্রাস ছড়ালেন বোল্যান্ড
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৪৮

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা পাকিস্তানের। ছবি: এএফপি
ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা পাকিস্তানের। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। ৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৮.১ ওভারে ২৬৮ রানে অলআউট হয়েছে শ্রীলঙ্কা। অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তানের বোলাররা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। এর আগে ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন সালমান আলী আগা।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ইনিংসের শুরুটা ভালো করার চেষ্টা করেন দুই ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিস ও আভিষ্কা ফার্নান্দো। দুজন মিলে ৩০ রানের জুটি গড়েন। তবে ষষ্ঠ ওভারে নাসিম শাহ আভিষ্কাকে ফিরিয়ে দিলে ভাঙে সেই জুটি। ৯ বল খেলে ৫ রান করেন তিনি।
এরপর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস যোগ দেন কামিন্দুর সঙ্গে। দুজনের ব্যাটে ৫০ রানের গণ্ডি পেরোয় শ্রীলঙ্কা। তবে ১৩.৫ ওভারে ফাহিম আশরাফের বলে কুশল আউট হলে ভাঙে ৩৬ রানের জুটি। ৩৪ বলে দুটি চারের সাহায্যে ১৮ রান করেন তিনি। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬৬ রান।
অর্ধশতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কামিন্দু। তবে ছয় রান দূরে থাকতে শাহিনের শিকার হন তিনি। ৫০ বলে ৪টি চারে ৪৪ রান করেন কামিন্দু।
২০তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন শাহিন। এবার তিন রানে সাজঘরে ফেরান সাহান আরাচ্চিগেকে। ১৯.৩ ওভারে ৯১ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে শ্রীলঙ্কা।
এরপর পাভান রত্নায়েকে ও জনিথ লিয়ানাগে মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দারুণ ব্যাটিং অব্যাহত রেখে দলকে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করান রত্নায়েকে। একপর্যায়ে নিজের প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতকও তুলে নেন তিনি। লিয়ানাগেকে নিয়ে পাকিস্তানের বোলারদের ভোগাতে থাকেন এই ব্যাটার।
পঞ্চম উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ২০০ রানের ঘরে নিয়ে যান রত্নায়েকে ও লিয়ানাগে। তাদের ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে সফরকারীদের।
তবে শেষ পর্যন্ত ১১৯ রানের এই জুটি ভাঙেন ফাহিম আশরাফ। ৭৪ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছক্কায় ৭৯ রান করে বিদায় নেন রত্নায়েকে।
অন্যদিকে লিয়ানাগে রান তোলা অব্যাহত রাখেন। দাসুন শানাকাও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রানের গতি বাড়ান। শ্রীলঙ্কার রান আড়াইশ ছাড়ানোর পথে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম অর্ধশতক তুলে নেন লিয়ানাগে।
এরপর গুরুত্বপূর্ণ ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন হারিস রউফ। ৪৩.৪ ওভারে লিয়ানাগেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ৭৪ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬০ রান করেন এই ব্যাটার। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৫৩ রান।
আবারও উইকেটের দেখা পান শাহিন। ১৮ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৮ রান করা শানাকাকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা আরও কঠিন করে দেন তিনি।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। নাসিম শাহ নিজের দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে সচিন্দু কলম্বাগেকে ফেরান।
এরপর ব্যাটারদের ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন ঈশান মালিঙ্গা। তার বিদায়ে শ্রীলঙ্কার নবম উইকেটের পতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত হারিস রউফ আসিথা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন। ১০ বলে সাত রান করেন আসিথা।
পাকিস্তানের হয়ে ১০ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি। নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করে পাকিস্তান। দুই ওপেনার ফখর জামান ও সাইম আইয়ুব নিয়মিত বাউন্ডারি মেরে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে চতুর্থ ওভারেই দিলশান মাদুশঙ্কার বলে আউট হন সাইম। ২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার আগে ৮ বলে একটি ছক্কায় ৭ রান করেন তিনি। ষষ্ঠ ওভারে আবারও আঘাত হানেন মাদুশঙ্কা। ১৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ রান করা ফখরকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ৫.৫ ওভারে ৩২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
এরপর বাবর আজমের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন অভিষিক্ত সাদ বেগ। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে পাকিস্তানের ইনিংস সামাল দেন। শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামলে দলকে ১০০ রানের ঘরে নিয়ে যান তারা।
তবে ১৯.৪ ওভারে ৭৪ রানের জুটি ভাঙেন ঈশান মালিঙ্গা। ৫৭ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করা বাবরকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১০৬ রান।
এর ঠিক এক ওভার পরই আবারও উইকেট নেন মালিঙ্গা। এবার উইকেটরক্ষক ব্যাটার সাদ বেগকে ফেরান তিনি। অভিষেক ম্যাচে ৪০ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৯ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন সাদ।
এরপর হাসান নওয়াজ ও সালমান আগা মিলে পাকিস্তানের ইনিংস এগিয়ে নেন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ জুটি রানের গতি বাড়ায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের দিকে নিয়ে আসে।
এই জুটিতে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম অর্ধশতক তুলে নেন সালমান। দুজন মিলে ৫০ রানের বেশি যোগ করে পাকিস্তানকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান।
তবে ৩৭.২ ওভারে ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন আসিথা ফার্নান্দো। ৪৯ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৭ রান করা হাসান নওয়াজকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৫ রান।
এরপরও দুর্দান্ত ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন সালমান। আরাফাত মিনহাসকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাদের ব্যাটে আড়াইশ রান পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। একপর্যায়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতকও তুলে নেন সালমান।
৪৫তম ওভারে ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন ফার্নান্দো। ১৫ বলে ২টি বাউন্ডারিতে ১৮ রান করা আরাফাতকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৭৯ রান।
এরপর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সালমানকেও ফেরান ফার্নান্দো। পাকিস্তানের পক্ষে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটার ৯০ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কায় ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন।
ঈশান মালিঙ্গার বলে আউট হন ফাহিম আশরাফ। এক বল খেলে ছয় রান করেন তিনি। নিজের পরের বলেই নাসিম শাহকে শূন্য রানে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন মালিঙ্গা। তবে পরের বলটি স্টাম্পের পাশ দিয়ে চলে গেলে হ্যাটট্রিক থেকে বেঁচে যান হারিস রউফ। এলবিডব্লিউর আবেদন করেও সফল হয়নি শ্রীলঙ্কা।
শেষ দিকে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদির গুরুত্বপূর্ণ অবদানে পাকিস্তানের রান ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। ইনিংসের শেষ ওভারে পাঁচ রান দেন মালিঙ্গা। শাহিন ১২ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর হারিস রউফ রানআউট হন।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ঈশান মালিঙ্গা ৯.৫ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। আসিথা ফার্নান্দো তিনটি এবং দিলশান মাদুশঙ্কা দুটি উইকেট শিকার করেন।