
আর্জেন্টিনার যে দুই তরুণকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ ম্যাক অ্যালিস্টারের
খেলা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৬

কুনিয়ার জোড়া গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ছবি: এএফপি
২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে রোমার বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন মাইকেল ক্যারিক। খেলোয়াড় হিসেবে সেটি ছিল তার অন্যতম সেরা রাত। তবে এবার একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলোয়াড় হিসেবে নয় বরং ক্লাবের ম্যানেজার হিসেবে নিজের চাকরি বাঁচানোর লড়াইয়ে এক অবিশ্বাস্য রাত কাটালেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে রোমার বিপক্ষে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। জোড়া গোল করে এই জয়ের নায়ক মাতেউস কুনিয়া। বাকি গোলটি ব্রুনো ফার্নান্দেসের। এর আগে মাতিয়াস সুলে ও ডনিয়েল মালেনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সফরকারী রোমা।
এদিন ঘরের মাঠে প্রথমার্ধের বিরতিতে ক্যারিকের পরিস্থিতি ছিল প্রায় অসম্ভব রকমের কঠিন। ইউনাইটেডের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে সমর্থকদের ক্ষোভের মধ্যে মাঠে ক্যারিকের দল খেলেছে অবিশ্বাস্য রকমের বাজে ফুটবল। বিরতিতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড। তবে সত্যি বলতে, তাদের রক্ষনভাগের দুর্বলতা বিবেচনায় এই স্কোরলাইনও ছিল বেশ সৌভাগ্যের।
কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা ছিল অবিশ্বাস্য। ক্যারিকের কাছে এই রাত হয়তো ২০০৭ সালের সেই রাতকেও ছাড়িয়ে গেছে। ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ এতটাই এলোমেলো ও দুর্বল ছিল যে শেষ পর্যন্ত তারা নিজেদের সমস্যার সমাধান খুঁজে পেল অন্যভাবে; আক্রমণাত্মক ফুটবলে। প্রতিপক্ষের অর্ধে বল রেখে খেলো, রক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তা কমাও।
এই প্রত্যাবর্তনের নায়ক মাতেউস কুনহা। তবে ম্যাচের ৯০তম মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। লিওনার্দো বালেরদির ওপর আবেগের বশে কড়া ট্যাকেল করে বসেন এই ব্রাজিলিয়ান।
তার আগে ব্রুনো ফার্নান্দেসের পেনাল্টি থেকে করা গোলের সঙ্গে নিজের দুটি গোল যোগ করেন কুনিয়া। ফার্নান্দেসের প্রথম পেনাল্টি শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে খেলোয়াড়দের বক্সে প্রবেশের কারণে সেটি আবার নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি ইউনাইটেড অধিনায়ক।
এরপর ৮৩তম মিনিটে বালেরদির ভুলের সুযোগ নিয়ে বল স্পর্শ করে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন কুনিয়া। তারপর আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত।
কোবি মেইনুর দুর্দান্ত গতিময় আক্রমণ এবং বদলি খেলোয়াড় শিয়া লেসির নিখুঁত জোরালো পাস থেকে বল পান কুনহা। প্রথম স্পর্শেই অসাধারণভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করে কাছের পোস্টের ভেতরের দিক ঘেঁষে জোরালো শটে জালে পাঠান তিনি।
গোল করার পর নিজের চেনা সার্ফিং উদ্যাপনে মেতে ওঠেন কুনহা। তবে এবার জার্সি খুলে সমর্থকদের গ্যালারিতে গিয়ে উদ্যাপন করেন তিনি। এর ফলেই প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখতে হয় তাকে।
এই জয় আপাতত ক্যারিকের চাকরি বাঁচিয়ে দিচ্ছে তা অনেকটাই নিশ্চিত। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচে জয়হীন থাকার পর এটি তার দলের প্রথম জয়। তাই এটিকে বড় কোনো পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রমাণ বলা যাবে না। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে ওঠার পথে ইউনাইটেডকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছে এই জয়।