
দিনের যে কোনো সময় করা যায় এমন ৩ জিকির

নবীজির প্রিয় জিকির
নবীজি সবসময়ই আল্লাহকে স্মরণ করতেই ভালোবাসতেন। যাকে জিকির বলা হয়। জিকির আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম। জিকিরে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে। জিকিরে জান্নাত লাভ হয়। সুসজ্জিত হয় জীবন। জিকিরে আমলনামা ভারী হয় বান্দার। নবীজি তাই জিকিরেই থাকতেন। জিকিরের মাধ্যমে জিহ্বাকে তাজা রাখতেন।
নবীজির জিকিরগুলোর অন্যতম হলো, সুবহানাল্লাহ, ওয়াল হামদু লিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার (তিরমিজি: ৩৫৯৭) হজরত সামুরাহ ইবনে জুনদাব (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয় কালাম চারটি। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, এক আল্লাহ ছাড়া আর উপাস্য নেই ও আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
এগুলোর যেকোনো শব্দ দ্বারা তুমি আরম্ভ করো, এতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই। (মুসলিম: ৫৪৯৪) নবীজির প্রিয় জিকির হাদিস থেকেই জানতি পারি। যে জিকিরকে শ্রেষ্ঠ জিকির বলেছেন নবীজি নিজেই।
আর এ জিকিরই নবীজির প্রিয় জিকির। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, সুবহানাল্লাহ ওয়াল-হামদু লিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার (আল্লাহ অতীব পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) বলা আমার কাছে যে-সব জিনিসের ওপর সূর্য উদিত হয় তা থেকেও বেশি পছন্দনীয়। (তিরমিজি: ৩৫৯৭)
জিকিরের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়। আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জন করা সম্ভব হয়। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) একটি শুকনা পাতাওয়ালা গাছের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করলে হঠাৎ পাতাগুলো ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, কোনো বান্দা আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ও লাইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার (সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, আল্লাহ তাআলা অতি পবিত্র, আল্লাহ তাআলা ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি অতি মহান বললে তা তার গুনাহসমূহ এরূপভাবে ঝরিয়ে দেয় যেভাবে এ গাছের পাতাসমূহ ঝরে পড়েছে (তিরমিজি: ৩৫৩৩)
অন্য হাদিসে আছে, এই জিকির সকালে এক শতবার করলে সাগরের ফেনাসমপরিমাণ গুনাহ মাফ হয়ে যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালের নামাজের পর এক শতবার সুবহানাল্লাহ ও এক শতবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। যদিও তা সমুদ্রের ফেনাসম হয়। (নাসায়ি: ১৩৫৪)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একটি চারাগাছ রোপণরত অবস্থায় রসুল (সা.) তার কাছ দিয়ে যেতে জিজ্ঞেস করলেন, আবু হুরায়রা, কী রোপণ করছ? আমি বললাম, আমার একটি চারা রোপণ করছি। তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু রোপণের কথা বলে দেব না, যা তোমার জন্য এর চেয়েও উত্তম? তিনি বলেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রসুল! তিনি বলেন, তুমি বলো, সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার (সমস্ত পবিত্রতা আল্লাহর, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান)।
প্রতিবারে বিনিময়ে তোমার জন্য জান্নাতে একটি করে গাছ রোপিত হবে (ইবনে মাজাহ: ৩৮০৭)। মিরাজের রাতে নবীজি (সা.) ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে দেখা করলে তিনি নবীজি (সা.)-কে বলেন, তিনি বলেন, হে মুহাম্মদ, আপনার উম্মতকে আমার সালাম পৌঁছে দিন। তাদের জানান যে, জান্নাতের জমিন অতীব সুগন্ধিসমৃদ্ধ এবং সেখানকার পানি অত্যন্ত সুস্বাদু। তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা হলো সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। (তিরমিজি: ৩৪৬২)
রসুল (সা.)-এর পশুরক্ষক হজরত আবি সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি শুনেছেন, রসুল (সা.) বলেছেন, পাঁচটি জিনিস মিজানে কতই না ভারী! লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ ও আলহামদু লিল্লাহ।
আর নেক সন্তান, যে মারা গেলে মুসলিম (মা-বাবা) তাতে সওয়াব কামনা করে (ইবনে হিব্বান: ৮৩৩) নবীজির সময় কাটতো আল্লাহর ধ্যানে আর জিকিরে। তিনি কোরআন পাঠ করতেন, আর জিকির করতেন। জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর ধ্যান করতেন। জিকির অন্তরকে সুস্থ রাখে। আর অন্তর সুস্থ থাকলে দেহ-শরীর সুস্থ থাকে। নবীজির মতো জিকিরই হোক আমাদের জীবনের সঙ্গী। সূত্র: মুফতি আবদুল্লাহ তামিম রচিত ‘নবীজির প্রিয় ১০০’ গ্রন্থ থেকে