
ফ্রি ওমরাহর সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৯:২৭

পুরুষ বডিগার্ডের প্রতিকী ছবি।
বর্তমান যুগে অনেক নারী নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুরুষ বডিগার্ড বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করে থাকেন। জীবনের সুরক্ষা ও আত্মরক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার হলেও ইসলামি শরিয়তে নিরাপত্তার ধরণ ও সীমানা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত।
নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বডিগার্ড রাখা হলেও, একজন অনাত্মীয় (গাইরে মাহরাম) পুরুষ বডিগার্ডের জন্য নারীর শরীর স্পর্শ করা কতটুকু বৈধ তা সঠিকভাবে জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরি।
ইসলামে একজন নারীর জন্য যেকোনো অনাত্মীয় পুরুষই 'গাইরে মাহরাম'। নিরাপত্তার তাগিদে কোনো পুরুষকে বডিগার্ড হিসেবে পাশে রাখার অনুমতি থাকলেও, বডিগার্ড হওয়ার কারণে তিনি কিন্তু 'মাহরাম' বা রক্তের সম্পর্কে পরিবর্তিত হয়ে যান না। শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি অন্যান্য সাধারণ পরপুরুষের মতোই গণ্য হবেন। ফলে পর্দা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং দৈহিক দূরত্বের সাধারণ বিধানগুলো বডিগার্ডের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য থাকে।
নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে নিযুক্ত হলেও কোনো পুরুষ বডিগার্ডের জন্য নারীর শরীর স্পর্শ করা সাধারণ অবস্থায় সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে, পরপুরুষের জন্য কোনো পরনারীর শরীর স্পর্শ করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নারীদের কাছ থেকে বাইআত বা শপথ নেওয়ার চরম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেননি। তাই কেবল ‘পাহারা দেওয়া’ বা ‘বডিগার্ড হিসেবে নিয়োজিত থাকা’র অজুহাতে শরীরের স্পর্শকে বৈধ মনে করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।
তবে ইসলাম একটি বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। যদি কখনো এমন চরম জরুরি পরিস্থিতি বা আক্রমণ ঘটে যেখানে নারীর প্রাণনাশের বা অপহৃতা হওয়ার প্রত্যক্ষ আশঙ্কা তৈরি হয়, কেবল তখনই জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে বডিগার্ড তাকে টেনে সরিয়ে নেওয়া বা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ন্যূনতম স্পর্শ করতে পারবেন। ইসলামি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা নিষিদ্ধ বিষয়কে সাময়িকভাবে শিথিল করে (الضرورات تبيح المحظورات)। তবে আক্রমণ বা প্রাণনাশের প্রত্যক্ষ ঝুঁকি ছাড়া সাধারণ সময়ে চলাফেরা, গাড়িতে ওঠানামা বা ভিড় ঠেলে পথ চলার সময় পুরুষ বডিগার্ডের শরীর স্পর্শ করা নাজায়েজ।
নারীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও পর্দার বিধান দুটিই যেন একসাথে রক্ষা পায়, সে জন্য সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা হলো নারী বডিগার্ড নিয়োগ করা। এতে করে যেকোনো শারীরিক সহায়তা বা তল্লাশির প্রয়োজন হলে কোনো ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘিত হয় না। আর যদি পুরুষ বডিগার্ড রাখতেই হয়, তবে তাকে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন দৈহিক স্পর্শ ছাড়াই এবং পর্দার মার্জিত দূরত্ব বজায় রেখে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।
একজন নারী নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য পুরুষ বডিগার্ড রাখতে পারলেও বডিগার্ডের জন্য তার শরীর স্পর্শ করা ইসলামি বিধান অনুযায়ী বৈধ নয়। নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার যেমন সত্য, ঠিক তেমনি ধর্মীয় সীমানা ও নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়ম মেনে ও স্পর্শ এড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই একজন সচেতন মুসলিম নারীর প্রধান দায়িত্ব।