
তওবা করার নিয়ম ও দোয়া
প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৫১

মোহাম্মদপুরস্থ কওমী মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের তত্ত্বাবধানে মোহাম্মদপুরস্থ আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ড ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদপুরের জামিয়া ইসলামিয়া ওয়াহিদীয়া মাদরাসা সংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্দেশনার আলোকে আয়োজিত এ কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদান রোধ, শরিয়তের সীমার মধ্যে সহমর্মিতাপূর্ণ শিক্ষাদান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মউন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার শাইখুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মাওলানা মুহাম্মাদ লুতফেরাব্বী আজহারী।
আলোচকরা বলেন, কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চরিত্র গঠন। তাই কোনো অবস্থাতেই রাগ, ক্ষোভ বা প্রতিশোধের বশবর্তী হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা উচিত নয়।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরাপদ ও সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন। শিক্ষকরা কোমল আচরণ, সুন্দর উপদেশ ও আদর্শিক দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
মাওলানা মাহফুজুল হক তাঁর বক্তব্যে সুন্নাহভিত্তিক তারবিয়াত ও কোমল আচরণের মাধ্যমে শিক্ষাদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের আচরণে ধৈর্য, মমতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
কর্মশালায় ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুরের আওতাভুক্ত বিভিন্ন কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালকরা অংশ নেন। দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ, মানবিক ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষকদের সচেতনতা বাড়বে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।