
সৌদি আরবকে বাঁচাতে ‘টাইফুন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৪

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি আকস্মিক কোনো ঘটনা ছিল না, বরং অনেক আগে থেকেই এর ছক কষা হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপের পেছনে রয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল ম্যাচ খেলে গাড়িতে করে ফেরার পথে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এই ঘটনায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজস্থানের কোটা থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করছে মুম্বাই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই শুটাররা তাদের গ্যাংয়ের সদস্যদের অভিযানের বিষয়ে অবহিত করে। মূল চক্রান্তকারী হিসেবে অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিত ও তার সহযোগীরা গণমাধ্যমে ওই ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সংবাদমাধ্যমে খবরটি দেখার পর তারা নিশ্চিত হন যে হামলা সম্পন্ন হয়েছে। এরপরই তারা আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা একটি ফেসবুক পোস্ট ও অডিও বার্তা ছড়িয়ে দেন।
পুলিশের ধারণা, হামলার ঠিক আগে শুটাররা ফুটবল খেলার মাঠ থেকে টাইগার শ্রফের একটি ছোট ভিডিও ফুটেজ তুলে গ্যাংয়ের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিল। ভিডিওটি পাওয়ার পর সেখান থেকে চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হামলাকারীরা গুলি চালাতে শুরু করে। পুরো কাজটির জন্য অভিযুক্ত তিনজনকে অগ্রিম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল এবং হামলা সফল হলে বাকি অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দেয়া হয়।
গোয়েন্দাদের সন্দেহ, কারাবন্দী গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অনিল পণ্ডিত এই পুরো চক্রান্তের মূল নেপথ্য কারিগর। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়, যেখানে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়।
অডিও রেকর্ডটিতে বক্তা নিজেকে অনিল পণ্ডিত হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, 'আমি অনিল পণ্ডিত, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো। টাইগার শ্রফের ওপর আজকের যে হামলা হয়েছে, আমি ও হরমান সান্ধু তার দায় নিচ্ছি।' অডিও বার্তায় আরও দাবি করা হয়, টাইগার শ্রফকে নাকি আগেই বোঝানো হয়েছিল কিন্তু তিনি তা শোনেননি। একইসঙ্গে অডিওতে হুমকি দিয়ে বলা হয়, 'পুরো চলচ্চিত্র শিল্পে যারা আমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে না কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাদের হত্যা করা হবে। এটিই আমাদের প্রথম ও শেষ সতর্কতা।'
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে প্রত্যেকের জন্য এক জোড়া করে পোশাক ছিল। এছাড়া দুজনের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ। তৃতীয় অভিযুক্ত ব্যক্তি পালানোর পথে তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তরা হামলার আগে টাইগার শ্রফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছিল কি না এবং কী কী ছবি বা ভিডিও গ্যাংয়ের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে ফোন দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া তারা কোন কোন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেছিল এবং গ্যাংয়ের কার কার কাছে সেসব ফুটেজ পৌঁছেছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্তদের কল ডিটেইল রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে গ্যাংয়ের সদস্যদের যোগাযোগের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাববে।