
ট্রাম্পের দূতের সফরের পর ৭৪ বছর বয়সি মার্কিনিকে মুক্তি দিল রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৭

অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: রয়টার্স
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এবার জোরালো পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে নরওয়েতে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা শেষ করার পর এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইউক্রেনের এখন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর সময়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নরওয়ের অসলোতে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইউক্রেন নতুন কিছু প্রস্তাব ও ধারণা সামনে এনেছে। নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাশিয়ার সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে একটি সার্বিক শান্তি কাঠামোর মূল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা জামানত, যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ দূত উইটকফের লক্ষ্য হলো আমেরিকা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ ত্রিপক্ষীয় এবং পরবর্তীতে আরও বিস্তৃত বহুপক্ষীয় আলোচনার পথ তৈরি করা।
ট্রাম্পের মস্কোঘেঁষা নীতি এবং ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা স্থগিতের জবাবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব কমাতেই অসলো সফরে যান জেলেনস্কি। রয়টার্সকে তিনি জানান, অসলো বৈঠকের পর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপের পর ইউক্রেন আবারও রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ও সামরিক তথ্য পেতে শুরু করেছে।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের তৈরি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। ইউক্রেনের ড্রোন বা দ্রুতগতির বস্তুতে স্টারলিঙ্কের সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে ক্ষোভ ছিল কিয়েভের।
এদিকে, ট্রাম্প মস্কোর ওপর থেকে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং রাশিয়ার ডিজেল কেনার চুক্তি করার পর মার্কিন কংগ্রেস ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'যুদ্ধ শেষ করতে ইউক্রেনকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। রাশিয়া একটি বিশাল শক্তি, তারা ক্রমাগত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে তারা বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে।'
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সরাসরি অস্ত্র দেওয়া কমিয়ে ‘পিইউআরএল’ কাঠামোর আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মাধ্যমে অস্ত্র বিক্রির সুযোগ চালু রেখেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইউক্রেনের নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের অনুরোধ এখনো অনুমোদন করেননি বলে জানা গেছে।
ওয়াশিংটন ও কিয়েভের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সুযোগে ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে তারা বোমাবর্ষণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয় পক্ষকে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইউক্রেন কয়েকদিন রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখলেও, রাশিয়ার আগ্রাসন অব্যাহত থাকায় তারা আবারও হামলা শুরু করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের রেনি ও ওডেসা বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ এবং সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ ও রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।