
ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইরান যুদ্ধকে ব্যবহার করতে পারেন নেতানিয়াহু: গোলান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫২

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি পিকঅ্যাক্স পর্বত। তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ছবি: এপি
ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোতে ‘মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই’ আঘাত হানার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় সময় শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘এখনও এক বা দুটি স্থাপনা বাকি আছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনও রয়েছে। আমরা ১০ মিনিটেই এটি গুঁড়িয়ে দিতে পারি। এ জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এবং খুব দ্রুত তা বাস্তবায়ন করতে পারি।’
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি পিকঅ্যাক্স পর্বত। ইস্পাহান প্রদেশে অবস্থিত এই পর্বতটি স্থানীয়ভাবে কুহ-ই কোলাং গাজলা নামে পরিচিত। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। এখন দেখা যাক কী হয়। আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে, তবে তাদের আসলে বিশ্বাস করা যায় না। তারা চুক্তিতে পৌঁছায়, আবার সেখান থেকে সরে আসে। তারা চুক্তি করতে চায়। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত তারা তাতে সই করে কি না।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে আবারও হামলা শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই দুই নেতার মধ্যে এ আলোচনা হয়।
এর আগে ইরানে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে পুনরায় যুদ্ধ শুরু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলছে তেহরান। আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি পর্যালোচনা চলছে। সংলাপের দরজা খোলার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও, এই মুহূর্তে বৈঠকের প্রয়োজন দেখছে না ইরান। তবে সব পরিস্থিতির জন্য তেহরান প্রস্তুত আছে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আরাঘচি বলেন, ‘আমরা সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিক করা হয়েছে, দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা হয়েছে এবং নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। আমাদের বাহিনী এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার জবাবে নজিরবিহীন শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলী আবদুল্লাহি। তিনি বলেন, হামলার ইঙ্গিত পেলেই জবাবের সময় ও ধরন ঠিক করা হবে।
এর মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, শক্ত অবস্থানে থেকেই এখন যুদ্ধ শেষ করার উপযুক্ত সময়। তবে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধের মুখে নতি স্বীকার করবে না তার দেশ।