
নেতানিয়াহুর সামনে সরকার গঠনের কোনো পথ নেই, দাবি ইয়ার লাপিদের
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৯

বাইন্যান্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং সিক্রেট সার্ভিসের (ইউএসএসএস) সঙ্গে কাজ করছে। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একে ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের প্রায় অর্ধেক অন্যান্য ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রাহকদের সব ক্ষতি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বাইন্যান্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং সিক্রেট সার্ভিসের (ইউএসএসএস) সঙ্গে কাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বাইন্যান্স বলেছে, ‘এটি ছিল জটিল একটি সাইবার হামলা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের কিছু অংশ জব্দ করতে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার বাইন্যান্স জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থ উত্তোলন সেবা আবার চালু হবে। তবে বাকি ৩৩০ কোটি ডলারের বিষয়ে তারা কিছু জানায়নি।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বাইন্যান্সের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এরপর অনুমতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেয়া হয়। সন্দেহের কেন্দ্রে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইনঅ্যানালাইসিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শুরু হওয়া হামলার বড় অংশ মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আগে দায়ী করা বড় ধরনের সাইবার হামলাগুলোর সঙ্গে এ ঘটনার মিল রয়েছে।
টিআরএম জানিয়েছে, হ্যাকাররা বাইন্যান্সের ওয়ালেটগুলো থেকে অর্থ সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওয়ালেটে পাঠানোর নির্দেশ দিতে সক্ষম হয়েছিল। ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে চালানো হামলার সঙ্গেও এর মিল রয়েছে। ওই হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল এফবিআই।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিশ্লেষণে টিআরএম বলেছে, ‘আমাদের ধারণা, এ হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার বিশেষায়িত হ্যাকিং ইউনিট রয়েছে।’ ব্রিটিশ ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এলিপটিক’রও ধারণা, এ চুরির পেছনে উত্তর কোরিয়া রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স