
‘অননুমোদিত’ আখ্যা দিয়ে মোদির বাসভবনের পাশে ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় হাতহাত বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সামরিক হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজায় নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা কবরস্থানের কাছে ইসরাইলি হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত ও একজন আহত হন। এ ছাড়া ওয়াদি গাজা এলাকায় ইসরাইলি গুলিতে এক শিশু নিহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গাজায় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের আল-কুসাইস এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গাজা শহরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে জেইতুন এলাকায় আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরাইলি অ্যাটাক হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে এক দম্পতি নিহত হন এবং তিন নারীসহ আরও চারজন আহত হন।
দক্ষিণ গাজায়ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। খান ইউনিসের দক্ষিণে কিজান আবু রাশওয়ান এলাকায় ইসরাইলি গুলিবর্ষণে এক শিশু নিহত হয়েছে। হামাদ সিটি ও দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে সামরিক বাহিনীর গুলিবর্ষণে এক নারী ও দুই শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘাত নিয়মিত ঘটনা হলেও গেলো কয়েকদিনে কূটনীতিকদের ওপর হামলা নিয়ে উত্তপ্ত অঞ্চলটি। শনিবার তাইবেহর কাছে মুখোশধারী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকদের ওপর হামলা চালায়। তাদের গাড়ি ভেঙে ফেলা হয়।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তেল আবিবের নিরাপত্তা বাহিনী ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রোববার এই জোট এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানায়। আলাদা বিবৃতিতে নিন্দা জানায় কানাডা। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এই অগ্রহণযোগ্য হামলাটি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার একটি বৃহত্তর ধারার অংশ বলে উল্লেখ করেন। যা ফিলিস্তিনি জনবসতিগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে এবং শান্তির প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে তুলছে।
অন্যদিকে, বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলার পর রোববার জেরুজালেমে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের বাইরে দেশটির সাবেক কূটনীতিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ইহুদি সন্ত্রাসবাদের অবসান দাবি করেন তারা।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পশ্চিম তীরের একটি খ্রিষ্টান অধ্যুষিত গ্রাম সফর করেছেন মার্কিন কূটনীতিকরা। এসময় তারা গির্জা পরিদর্শন করেন।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড