
যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিটি শিশুকে’ স্পেসএক্সের শেয়ার দেয়ার ঘোষণা ইলন মাস্কের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫১

গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের কাটছাঁট করার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। ফাইল ছবি
তহবিল ঘাটতির কারণে গাজায় ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের কাটছাঁট করার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। এর ফলে জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। অথচ যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অধিকাংশ মানুষই এখন পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা আগের বছরগুলোর তুলনায় অর্ধেকেরও কম তহবিল পেয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আগামী ছয় মাস জরুরি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের আরও ৪৫০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
ডব্লিউএফপি জানায়, এর ফলে তারা গাজায় মাসিক সহায়তা গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে কমিয়ে ১১ লাখে নামিয়ে আনবে। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া খাদ্য সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দুটি প্যাকেটের পরিবর্তে একটি প্যাকেট করা হবে এবং আটার বস্তার আকারও ছোট করা হবে।
জাতিসংঘের সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, তারা প্রতিদিন সরবরাহ করা গরম খাবারের সংখ্যাও আড়াই লাখ থেকে কমিয়ে দেড় লাখে নামিয়ে আনবে। যেসব পরিবার দুর্গম এলাকায়, যেমন ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা নির্দেশকারী তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র কাছাকাছি বসবাস করে, তারা এখন থেকে প্রতিদিনের পরিবর্তে একদিন পরপর গরম খাবার পাবে।
জাতিসংঘের প্রাক্কলন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ব্যাপক প্রাণহানি ছাড়াও গাজায় ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ বেকার হয়েছে এবং বাজারে তাজা বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পাওয়া গেলেও তা কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে মাত্র একজন পর্যাপ্ত বৈচিত্র্যময় খাবার গ্রহণ করতে পারে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও সীমিত রয়ে গেছে।
গাজায় আনুমানিক ১৪ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার শিকার, যা সংকটজনক বা তার চেয়েও খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এই সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ বা মোট জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশ। তবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, পরিস্থিতির এই উন্নতি ‘খুবই সামান্য এবং ভঙ্গুর’।
সূত্র: আল জাজিরা