
যৌক্তিকতা বজায় রেখে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হবে: বিইআরসি চেয়ারম্যান

এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। ছবি: সময় সংবাদ
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনছেন খুচরা বিক্রেতারা। এর মধ্যেই এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দাবি, অযৌক্তিক অজুহাতে বারবার দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ানোর পরও নতুন নতুন অজুহাতে বেশি দামে বিক্রি করা হতে পারে।
কয়েক হাত বদলে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছায় এলপিজি সিলিন্ডার। এ প্রক্রিয়ায় চলে নানা ধরনের কমিশন বাণিজ্য। সিন্ডিকেটের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে খুচরা বিক্রেতার হাতে পৌঁছাতে সিলিন্ডারের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।
সিলিন্ডার কিনতে আসা এক ভোক্তা বলেন, ‘আগে আমাদের সিন্ডিকেট ঠিক করতে হবে। জায়গামতো ঠিক করতে পারলেই দোকানদার কম দামে পেলে কম দামে বিক্রি করতে পারবেন।’
সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবরে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এবার সিলিন্ডার প্রতি আরও ৩০০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
আবারও এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে উদ্বেগ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। এক ভোক্তার অভিযোগ, ‘এটা একটা সিন্ডিকেটের মতো। আরেকটা বিষয় হলো, টাকা বেশি দিলে পাওয়া যায়, কম দিলে পাওয়া যায় না।’
তবে ডিলার ও বিক্রেতাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এরইমধ্যে সিলিন্ডার কিনতে তাদের ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এক বিক্রেতা বলেন, ‘আমাদের ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ি আসে না। তখন অন্যভাবে সিলিন্ডার আনতে হয়। সেখানেও আমাদের গাড়ি পাঠাতে হয়। সব মিলিয়ে কিছুটা বাড়তি টাকা নিতে হচ্ছে। সামনে শীত আসছে। শীতের সময় একটা সংকট থাকে। তখন দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।’
এদিকে, ভোক্তাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাবের দাবি, নানা অজুহাতে আবারও দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দাম বাড়ালেও আমরা নির্ধারিত দামে পণ্য পাব কি না, তা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, এর আগেও দাম বাড়ানোর পর নির্ধারিত দামে পণ্য পাওয়া যায়নি। তখন ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে সামনে আনেন।’
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি দফতরগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এজন্য এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর প্রকৃত ব্যয়, কমিশন ও মুনাফার হিসাব স্বচ্ছভাবে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ক্যাব।