
২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের সব ফ্লাইট স্থগিত করলো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
ফারুক ভূইয়া রবিন
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮

এলপিজি সিলিন্ডার। ফাইল ছবি
বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সম্প্রতি এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে সরবরাহ সংকটের কারণে বাড়তি দাম দিয়েও মিলছে না এ জ্বালানি পণ্য। ফলে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা।
সাধারণ মানুষ ও খাবারের দোকানের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দাম থাকলেও সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। একজন ক্রেতা বলেন, ‘সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, কিন্তু দোকানে সেই দামে পাওয়া যায় না। ২ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত দামে পাওয়া যায় না। কোনো দোকানেই ২ হাজার ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের জন্য কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দাম এখন নাগালের বাইরে চলে গেছে।’
প্রায় ১০ মাস ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে এমন অস্থিরতা চলছে। গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর আগে তিন থেকে চার ধাপে হাতবদল হয় এ জ্বালানি পণ্য। আর প্রতিটি ধাপেই বাড়তি মুনাফার অভিযোগ উঠছে।
তবে খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন পরিবেশকদের ওপর। অন্যদিকে পরিবেশকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বিক্রেতারা। এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘অনেক জায়গায় পাইকারি দরে ২ হাজার ২০০ টাকা করে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পরিবেশকরা আমাদের মেমো দেন না। তাই সরাসরি পণ্য নেয়ার চেষ্টা করব।’
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, ‘বিইআরসির নির্ধারিত দামে আমরা পণ্য পাচ্ছি না। বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সেই অনুযায়ী মেমোও পাচ্ছি না, বরং মেমোতে কম দাম দেখানো হচ্ছে।’
বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছে এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। সংগঠনটির সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, ‘বিইআরসির নির্ধারিত দামেই অপারেটররা গ্যাস সরবরাহ করেন। এরপর ডিলার ও পরিবেশকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়া হয় অথবা তারা সরাসরি ডেলিভারি নেন। কোনো প্রতিষ্ঠান বেশি দামে বিক্রি করলে তার নাম জানালে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি সরকারকেও জানানো হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যায়।’
বাজারসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তারা। এ অবস্থায় দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলপি গ্যাসের বাজারে এমন পরিস্থিতিতে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাস্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কার্যকর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘রেগুলেটরি কমিশন নিষ্ক্রিয়, প্রতিযোগিতা কমিশনও নিষ্ক্রিয়। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দাম নির্ধারণ করল, কিন্তু সেই দাম মানা হলো না। এর জন্য কেন কারও শাস্তি হলো না? প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা কিংবা জেলের মতো আইনে থাকা শাস্তি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর হতে হবে।’
এদিকে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রির কারণ অনুসন্ধানে নামার কথা জানিয়েছে বিইআরসি। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘বিইআরসি থেকে এখন অনুসন্ধানে নামছি, আসলে কী ঘটছে, বিশেষ করে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে। উৎপাদক ও বোতলজাতকারীরা নির্ধারিত দামে বিক্রি করছেন কি না, আর পরিবেশকরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সঠিক দামে সরবরাহ করছেন কি না, তা আমরা দেখতে চাই।’
এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তবে নির্ধারিত দামে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভোক্তাদের ভোগান্তি কমবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।