
চট্টগ্রাম বন্দরে সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ, চাহিদা মিটিয়ে বিদ্যুৎ যাবে জাতীয় গ্রিডেও
কামরুল হাসান সবুজ, থাইল্যান্ড
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৯

পাতায়ায় বাড়ছে বাংলাদেশি খাবারের চাহিদা। ছবি: সময় সংবাদ
থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পাতায়ায় বাড়ছে বাংলাদেশি খাবারের চাহিদা। তবে সেখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না বাংলাদেশি কর্মীরা। হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, আসিয়ানভুক্ত দেশের নাগরিকেরা বেশি সুবিধা পাওয়ায় কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশিরা। এ অবস্থায় ঢাকা-ব্যাংককের মধ্যে শ্রমবিষয়ক চুক্তির মাধ্যমে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো সহজ করার তাগিদ দিচ্ছেন প্রবাসীরা।
পর্যটকদের অপেক্ষায় রাতভর জেগে থাকে পাতায়া। রাজধানী ব্যাংকক থেকে সড়কপথে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরের এই পর্যটননগরীতে আলো-আঁধারিতে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করা, পথে হেঁটে বেড়ানো কিংবা কেনাকাটা-সব মিলিয়ে অবসর কাটানোর নানা আয়োজন রয়েছে। পর্যটকদের কাছে তাই আকর্ষণীয় গন্তব্য থাইল্যান্ডের এই শহর।
পাতায়ায় ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের বাংলাদেশি ও ভারতীয় খাবারের স্বাদ দিতে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশিদের পরিচালিত বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠান।
পাতায়ার কারি হেভেন রেস্তোরাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মানসুরা আলম সনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেকে থাইল্যান্ডে এসে পাতায়ায় ঘুরতে আসেন। তাদের খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে সব জায়গায় হালাল খাবার পাওয়া যায় না। তাদের কথা ভেবেই এখানে ১০ বছর আগে রেস্তোরাঁটি গড়ে তুলেছি। আগে আমার তিনজন কর্মী ছিলেন, এখন আছেন আটজন।’
শখের বশে গড়ে তোলা এসব রেস্তোরাঁর খাবার ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ অতিথিরাও। আগে থেকে জানালে পর্যটক ও অতিথিদের চাহিদা অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের সুযোগও রয়েছে বাংলাদেশিদের পরিচালিত এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয়। একজন পর্যটক বলেন, ‘এখানে খেতে এলে মনে হয়, রেস্তোরাঁয় নয়, নিজের বাসায় খাচ্ছি। খাবার খুব ভালো।’
তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার প্রক্রিয়া কঠিন হওয়ায় রেস্তোরাঁগুলোতে অন্য দেশের নাগরিকদের নিয়োগ দিতে হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। কারি হেভেন রেস্তোরাঁর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা নেপালি ও বার্মিজ কর্মী রাখি। কারণ, তারা এলে থাইল্যান্ডে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটসহ তাদের পেছনে বছরে মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার বাত খরচ হয়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনতে পারি না, কারণ কর দিতে হয় অনেক বেশি। একটি ওয়ার্ক পারমিটের জন্য সারা বছর চার ধরনের কর দিতে হয়। এতে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মী আনি না।’
এ পরিস্থিতিতে ঢাকা ও ব্যাংককের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সহজে কাজের সুযোগ তৈরির তাগিদ দিচ্ছেন প্রবাসীরা। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশে প্রবাসী আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।
পাতায়ার প্রাণো কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের শ্রমবিষয়ক কোনো চুক্তি নেই। এ ধরনের চুক্তি হলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পর্যায়ের কর্মীরাও এখানে আসতে পারতেন। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যারা আসেন, তাদের বেশিরভাগই ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কাজ করেন। তারা নিচের স্তরের কাজ করতে পারেন না। বাংলাদেশে শ্রমিকের অভাব নেই, অন্যদিকে এখানে শ্রমিকের সংকট রয়েছে। আমরা এই ব্যবধানকে কাজে লাগাতে পারি।’