
আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৯

দক্ষিণ কোরিয়ার এই কে-পপ দল সংগীত পরিবেশনার প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে শেখাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
মঞ্চজুড়ে আলো ঝলমল করছে। দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর চারপাশ। ছন্দের তালে তালে এগিয়ে চলছে নাচ, গানের সঙ্গে মিলছে হাতের ইশারা। প্রচলিত কে-পপ পরিবেশনার সঙ্গে এই দৃশ্যের পার্থক্য স্পষ্ট। কারণ, মঞ্চে যারা পারফর্ম করছেন, সেই তিন শিল্পীর প্রত্যেকেই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। তাদের দলটির নাম ‘বিগ ওশান’।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই কে-পপ দল সংগীত পরিবেশনার প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে শেখাচ্ছে। গান, নাচ ও ইশারা ভাষার সমন্বয়ে নিজেদের জন্য তৈরি করেছে স্বতন্ত্র পরিবেশনাশৈলী। শ্রবণপ্রতিবন্ধকতা তাদের সংগীতচর্চার পথে ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করলেও সেই বাস্তবতার মধ্যেই তারা খুঁজে নিয়েছেন নিজেদের প্রকাশের পথ।
কে-পপের জগৎ মানেই নিখুঁত কোরিওগ্রাফি, মঞ্চের দাপট, চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা আর সংগীতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশনা। এই জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে হলে প্রয়োজন প্রতিভা, কঠোর অনুশীলন এবং দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষমতা। বিগ ওশানের সদস্যরাও সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন, তবে তাদের পরিবেশনায় যুক্ত হয়েছে বাড়তি একটি মাত্রা—ইশারা ভাষার সৃজনশীল ব্যবহার।
শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিল্পীদের জন্য সংগীতের ছন্দ ও তাল অনুসরণ করার অভিজ্ঞতা শ্রবণক্ষম শিল্পীদের মতো নয়। তাই পরিবেশনার প্রস্তুতি ও মঞ্চে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজন হয় উপযোগী কৌশল ও অনুশীলন। বিগ ওশানের পরিবেশনায় নাচ ও ইশারা ভাষার সমন্বয় সেই প্রচেষ্টারই একটি প্রকাশ।
তাদের পরিবেশনা দর্শকদের সামনে সংগীত উপভোগের আরেকটি ধরন তুলে ধরে। এখানে হাতের ইশারা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বরং শিল্পীসত্তা প্রকাশেরও একটি অংশ। নাচ, শারীরিক অভিব্যক্তি ও মঞ্চের উপস্থাপনা মিলিয়ে তৈরি হয় তাদের নিজস্ব শৈলী।
২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে আলোচনায় এসেছে বিগ ওশান। নিজেদের পরিবেশনার স্বাতন্ত্র্য দিয়ে দলটি দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতজগৎ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের পরিচিত করে তোলার যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র সফর তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কনসার্টের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু করে দলটি। আটটি শহর ঘিরে আয়োজিত এই সফরের প্রথম কনসার্টের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এই সাড়া দলটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
একটি আন্তর্জাতিক সংগীতবাজারে নিজেদের জায়গা করে নেওয়া যেকোনো নতুন দলের জন্যই চ্যালেঞ্জের। তার ওপর বিগ ওশানের পরিবেশনার ধরন প্রচলিত কে-পপের চেয়ে আলাদা। ফলে তাদের সামনে যেমন নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তেমনি নিজেদের সংগীত ও মঞ্চ পরিবেশনার স্বকীয়তা তুলে ধরারও সুযোগ রয়েছে
বিশ্বজুড়ে কে-পপের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংগীতধারায় যুক্ত হচ্ছে নানা ধরনের শিল্পী ও পরিবেশনা। এই প্রেক্ষাপটে বিগ ওশানের যাত্রা মনে করিয়ে দেয়, সংগীতের জগতে সৃজনশীলতার জন্য প্রচলিত ছকের বাইরে ভাবার সুযোগ সব সময়ই রয়েছে।