
বাম্পার ফলনেও দাম নেই, পঞ্চগড়ে ক্ষেতের লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন কৃষক
কামরুল হাসান সবুজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০

ভ্রমণ ও চিকিৎসা; দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা বাড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের। দেশটির স্বাস্থ্যখাতের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ডে আসেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলছেন, এখানে রোগীর সমস্যা ও রোগের ধরনকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচেও উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একজন রোগী বলেন, ‘পেশেন্টদের প্রবলেম অ্যান্ড তাদের ডিজিজ; সবকিছুকে প্রাধান্য দিয়ে এখানে ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়। এখানে অনেক ভালো ভালো হাসপাতাল আছে। সেখানে গেলে একই ট্রিটমেন্ট সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে আগে থেকে জানতে হবে।’
রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে থাইল্যান্ডে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারাও পরিচালনা করছে নিজেদের কার্যক্রম। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান ব্যাংককের প্রাণকেন্দ্র সুকুম্ভিতে অবস্থিত সুরা হেলথকেয়ার।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় মেডিকেল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা কাজ করছে। নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকসহ ১২টি দেশের পাঁচ শতাধিক রোগী প্রতি মাসে তাদের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন।
একজন রোগী বলেন, ‘এখানে আসলে আলহামদুলিল্লাহ, কোনো ধরনের সহযোগিতার অভাব অনুভব করিনি। আমরা যে বিদেশ থেকে এসেছি, সে কারণে সেবার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি হচ্ছে-এমনটাও মনে হয়নি।’
সুরা হেলথকেয়ার জানিয়েছে, রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সেবা সহজ করতে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন আটজন দক্ষ থাই কর্মী। প্রয়োজন হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা সম্ভব। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও ব্যয়ের পরিকল্পনা সাজাতে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে রোগীদের সরবরাহ করেন তারা।
ব্যাংককের সুরা হেলথকেয়ার ও সুরা ফার্মেসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘থাইল্যান্ডের সবচেয়ে স্বনামধন্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে বারমনগাট হাসপাতাল, ব্যাংকক হাসপাতাল, সামিতা বেস, ইনথেরারাত ও পায়াথাইসহ প্রায় ১৫টি হাসপাতালের সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করেছি। তিন থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করি। পাঁচ দিনের মধ্যে ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা করি। যাতায়াত, আবাসন, হোটেল, খাবার ও অনুবাদক; সবকিছুর ব্যবস্থাই আমরা করে থাকি। প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করতে পারি।’
ব্যাংককসহ থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা নিতে দেশটিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য আসেন। পাশাপাশি লিভার ও কিডনির বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসা নিতেও থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন অনেকে।
চিকিৎসাসেবা নির্বিঘ্ন করতে সুরা হেলথকেয়ারের মেডিকেল শপে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রায় সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজন হলে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও করে তারা।