
বৈধ-অবৈধ পথে আসছে স্বর্ণের বার, গন্তব্য কোথায়?
বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৫

বিশ্বব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান উন্নয়নে ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
এতে বলা হয়, ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ বা প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ত্বরান্বিতকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করা হবে। এর লক্ষ্য, শিশুদের শ্রেণি অনুযায়ী পড়া, লেখা ও গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। পাশাপাশি সরকারের ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়নেও অর্থায়নটি ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শিক্ষার গুণগত মান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই বয়স উপযোগী সাধারণ কোনো লেখা পড়তে ও বুঝতে পারে না। তুলনামূলকভাবে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসম বলেন, ‘বিশ্বপর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। গত দুই দশক ধরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশকে প্রায় সব শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে। এই অর্থায়ন শিশুদের আরও ভালোভাবে শিখতে এবং বিদ্যালয়ে টিকে থাকতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতে ভালো চাকরি পাওয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।’
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় ২ কোটিরও বেশি শিশু পড়াশোনা করছে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় সাক্ষরতা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে একটি প্যাকেজ চালু করা হবে। এতে থাকবে পাঠদানের উপকরণ, পরিকল্পিত পাঠক্রম এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। এছাড়া দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও কর্মসূচির টিম লিডার তাশমিনা রহমান বলেন, ‘ভালো চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী মৌলিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশু যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচিতে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা বা রেমিডিয়াল লার্নিং চালু করা হবে। বিশেষ করে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোতে এ বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা ও বিদ্যালয় পর্যায়ে নেতৃত্বের উন্নয়ন, বাজেট ব্যবহারে জবাবদিহি বাড়ানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতেও সহায়তা করবে এই কর্মসূচি।
কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে, যাতে তারা শ্রেণিকক্ষে পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে শেখাতে পারেন। এর ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানও উন্নত হবে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক। এতে শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরুটা আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে তাদের প্রস্তুতি বাড়বে।
বিশ্বব্যাংকের ধারণা, এই কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে তুলনামূলক ভালো বেতন পাওয়া যাবে।
কর্মসূচিটির অর্থায়ন করছে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)। এটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি অংশ, যা নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা দিয়ে থাকে। কর্মসূচিটির মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধে অব্যাহতিকাল বা গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।