
সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও বারবার অপরাধে দ্বিগুণ শাস্তির প্রস্তাব
আল মামুন
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯

দখল ও দূষণে এক সময়ের খড়স্রোতা নারদ নদ এখন অস্তিত্ব হারিয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
দখল ও দূষণে এক সময়ের খড়স্রোতা নারদ নদ তার অস্তিত্ব হারিয়ে এখন ড্রেনে পরিণত হয়েছে। নদটির পানিতে জলজপ্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে নদটি নাটোরবাসীর অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দুর্ভোগের নারদ নদের যৌবন ফেরাতে ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন ও ওয়াকওয়ের নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
আর দ্রুত কাজ শুরু করতে গত সপ্তাহে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নারদ নদ পরিদর্শন করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাটোর শহর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খড়স্রোতা নারদ নদটিতে এখন স্রোত তো দূরের কথা কচুরিপানার কারণে পানি প্রবাহ হয় না। পৌর এলাকার প্রায় ২০ কিলোমিটার নদটির দুপার দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনা। এ ছাড়া সরকারি বেসরকারি শিল্প কলকারখানার বর্জ্যে দূষিত হয়েছে নদটির পানি। নষ্ট হয়ে নদটির পানিতে কোনো জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব নেই। পাশাপাশি দুর্গন্ধের কারণে নদটির পাশে বাস করা কঠিন। এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত রক্ষা চান শহরবাসী।
জংলী এলাকার আব্দুর রহিম বলেন, ‘দুষিত পানির গন্ধে মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।’
লেংগুড়িয়া এলাকার সেলিম বলেন, ‘নারদ নদে এক সময় স্রোত ছিল; নৌকা চলত। পর্যাপ্ত মাছ ছিলো এই নদে। এখন নদটিতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব নেই। নদটির সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদটি খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাসহ শহরের ২০ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ের পাশাপাশি ফ্লাড লাইট স্থাপন করা হবে। কাজ সম্পূর্ণ হলে নারদ নদ হবে নাটোরবাসীর বিনোদনের স্থান।’
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম বলেন, ‘আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ দ্রুত হবে। কাজ শেষ হলে নদটি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।’
জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুদার দুলু বলেন, ‘ওয়াকওয়ের পাশাপাশি ফ্লাড লাইট স্থাপনের পর এটি পর্যটন কেন্দ্র হবে।’
এ দিকে দ্রুত খনন কাজ শুরু করতে গত সপ্তাহে (১৫ অক্টোবর) পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নারদ নদ পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘নারদ নদ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে এর পানি সেচের জন্য ব্যবহার করা হবে। নাটোরবাসীর দুর্ভোগের নারদ নদ হবে পর্যটন কেন্দ্র।’
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘নাটোরবাসীর দুর্ভোগ এই নারদ আর্শিবাদ হবে। সারাবছর নদটিতে পানি থাকবে। নারদের পানিতে উৎপাদন হবে মাছ। ফসলের সেচ কাজে ব্যবহার হবে পানি।’
৪৩ কিলোমিটারের এই নারদ পুরোটা দখলমুক্ত করে ম্যাপ অনুযায়ী খনন করা হবে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।