
পর্যটকে প্রাণ ফিরেছে সেন্টমার্টিনে, স্বস্তিতে দ্বীপবাসী
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৩:১৩

ভাঙচুর করা দোকানপাট ও গোডাউন। ছবি: সময় সংবাদ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে জড়ো করে পুলিশের উপস্থিতিতে ১২টি দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা ওই এলাকার মৃত খলিল দফাদারের পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ছয় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি তাদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফিরে আসেন। এরপর সোনা মহলদার এবং স্থানীয় সিদ্দিক মহলদার ও নুরু মহলদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে দফাদার পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমিটি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০-৬০ বছর আগে তাদের দাদা হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড হওয়ার সময় মূল দাগটি তিনটি দাগে বিভক্ত হয়। তবে কবরস্থানের জমি এবং তাদের মার্কেটের জমির দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। কবরস্থানের জমির সঙ্গে মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই। সড়কসংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় তাদের জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধ তৈরি করা হলেও প্রতিপক্ষ জমির কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলে হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করা হয়। পরে তাদের দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করা হয়। এ সময় সোনা মহলদার ঘোষণা দেন, যেসব পরিবারের সদস্যরা ভাঙচুরে অংশ নেবেন না, তাদের মরদেহ ওই কবরস্থানে দাফন করতে দেয়া হবে না। এমন ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক চাপে অনেকে ভাঙচুরে অংশ নিতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, ‘আমাদের দাদা কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই। জোরপূর্বক আমাদের দোকানপাট ভাঙচুর ও জমি দখল করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটেছে। সোনা মহলদার ও কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে ডেকে এনে ভাঙচুরে বাধ্য করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি থানায় মামলা করতে গেলে বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বাইরে বের হলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমরা জীবনের নিরাপত্তা এবং পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোনা মহলদার বলেন, ‘ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। তারা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। এ কারণে কবরস্থানের সদস্যসহ প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি সংসদ সদস্যের বাসায় ছিলাম।’
কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথা বলেন, ‘মার্কেটের জমিটি কবরস্থানের সম্পত্তি। বারবার বলা সত্ত্বেও তারা জমিটি কবরস্থানের দখলে দিচ্ছিলেন না। এ কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর করেছে।’ তবে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘ভাঙচুরের ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দফাদার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।