
চাকরির সুযোগ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ৩ বিশেষ কোর্স: ড. মামুন
তাসলিমুল আলম তৌহিদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪

স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও বিভিন্ন প্রলোভনে গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংকিং সিস্টেমে জমা না দিয়ে আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক শাখায় সরেজমিন অনুসন্ধান চালিয়ে ৯১ জন গ্রাহকের অন্তত ৯ কোটি টাকা লোপাটের সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে হাতরসিদ (জমার রসিদ) দিতেন। তবে কৌশলে সেই টাকা ব্যাংকের মূল অ্যাকাউন্টে বা কম্পিউটার সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত না করে আত্মসাৎ করতেন। সম্প্রতি দুদকের একটি টিম ঘটনাস্থলে সরেজমিন গিয়ে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লোপাটের প্রাথমিক প্রমাণ পায়। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপকসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ৯১ জন গ্রাহকের আনুমানিক ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করে এ ঘটনায় দ্রুতই মামলা দায়ের করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার মূল অভিযুক্ত শ্রীনগর শাখার সাবেক ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তদন্তে অন্যান্য কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ পেলে ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজারসহ আরও পাঁচজনকে গ্রেফতর করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপক শরীফউদ্দিন, দিঘিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল হক, সাবেক ক্যাশ অফিসার জিন্নাহ হোসেন ও দুজন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ক্যাশ অফিসার শরীফুজ্জামান সোহাগ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতারিত গ্রাহকরা ব্যাংকে ভিড় করতে শুরু করেন এবং নিজেদের জমাকৃত টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে, নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাবেক দুই উপাচার্যসহ (ভিসি) আটজনের বিরুদ্ধে আলাদা চারটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
মামলায় অভিযুক্ত দুই ভিসি হলেন: প্রফেসর খন্দকার নাসির উদ্দিন এবং প্রফেসর ড. খাইরুল আলম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে অবৈধ ও অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও পদ অপব্যবহারের প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় দুদকের পক্ষ থেকে এই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।