
জাপানের ‘ও-সোজি’ মডেলে যাচ্ছে ডিসি ফরিদার ‘ক্লিন স্কুল টিম’
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭

কুয়াকাটায় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ করার অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করল স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ করার অভিযোগে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞার ব্যানারও।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পরে নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞার ব্যানার টাঙানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ করায় নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমিতে ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের কার্যক্রম চলে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরইমধ্যে প্রকল্প এলাকায় অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। সেখানে একটি মসজিদ ও কনভেনশন হল নির্মাণের কাজও চলছিল।
প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাসুদ সাঈদী। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটিকে ‘বাংলাদেশের হালাল ট্যুরিজম’ হিসেবে প্রচার করে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রচারণায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে প্রকল্পটির শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে ওই জমি রেলওয়ের স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বিএস জরিপ অনুযায়ী জমিটি কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি মাসুদ সাঈদীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লী বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। এর জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদফতর থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দফতরেরও আবেদন করা হয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভা থেকেও অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মনির মুসুল্লীর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও অনুমতির জন্য আবেদন করার পরও নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার পেছনে বড় কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
এদিকে জমিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাখাইন সম্প্রদায়ের উমাচ্যান।
তার দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তার দাদা চিথাও ও নাথাও। ফলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজের পাশাপাশি জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে।