
ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপি আজিজের ছেলে আরও ২ দিনের রিমান্ডে
প্রতিবেদক, যশোর
প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৪৪

যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন কলেজছাত্রী কাজল রেখা। ছবি: সময় সংবাদ
যশোরের শার্শা উপজেলায় কাজল রেখা নামের এক কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত, লাঞ্ছিত ও ধর্ষণের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা এবং বাড়িছাড়া করার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওই ছাত্রীর।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাজল রেখা জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তারা নানার বাড়ি শার্শার বাগআঁচড়া ঘোষপাড়ায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বাড়িতে রয়েছেন।
তার অভিযোগ, খালাতো ভাই ইমন হোসেন (২৬), খালু আইয়ুব হোসেন (৬০) এবং একই এলাকার প্রভাবশালী আলী আহম্মদ (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। অভিযুক্তদের অত্যাচারে একপর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থেকে তাকে এসএসসি পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
কাজল রেখা বলেন, গেল ২৮ অক্টোবর সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় গেলে ইমন তার ওড়না ছিনিয়ে নেন এবং লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এসময় তাকে ধর্ষণ ও গ্রামছাড়া করার হুমকিও দেয়া হয়।
তার দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েও তিনি প্রতিকার পাননি। ওই দিনই (২৮ অক্টোবর) তিনি শার্শা থানায় ইমন হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে কাজল রেখা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং নির্বিঘ্নে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তার মা মাজেদা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজল রেখার খালু আইয়ুব হোসেন বলেন, কাজলের মা মাজেদারা চার বোন ও এক ভাই। মাজেদা সাতক্ষীরার কলারোয়ার একটি ক্লিনিকে চাকরি করেন। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। তার একমাত্র ভাই সাইপ্রাসে থাকেন। ওই বাড়ির মোট জমি ১৬ শতক। ভাইয়ের জন্য পাঁচ শতক ও রাস্তার জন্য এক শতক রেখে বাকি ১০ শতক চার বোনের জন্য রাখা হয়েছে।
আইয়ুব হোসেন আরও বলেন, স্বামী না থাকায় এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে মাজেদাকে পৈতৃক বাড়িতে থাকার অনুমতি দেন তার ভাই। ভাই বিদেশ থেকে ফিরে চার বোনের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করে দেবেন বলে কথা ছিল। কিন্তু মাজেদা ওই ১০ শতক জমির সামনের অংশে ঘর তোলেন এবং প্রাচীর দেয়ার চেষ্টা করেন। তখন বাকি তিন বোন বাধা দিয়ে বলেন, ভাই ফিরে এসে জমি বণ্টন করে দেবেন। কিন্তু মাজেদারা তা না শুনে প্রাচীর দেয়া শুরু করেন। এসময় ইমন, আইয়ুব হোসেন ও প্রতিবেশী আলী আহম্মদ আপাতত প্রাচীর দিতে নিষেধ করেন।
আইয়ুব হোসেনের দাবি, তারা কাজল রেখার ওপর কোনো অত্যাচার বা হুমকি দেননি এবং গ্রামের মানুষও তা দেখেছেন।
এ বিষয়ে বাগআঁচড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘দুই পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ। কাজল রেখা বা তার মায়ের ওপর অত্যাচার বা নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’