
মাদারীপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:২২

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। ছবি: সংগৃহীত
তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে নতুন গঠিত মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেছেন, আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই শ্রমিকেরা যেন বর্ধিত মজুরি পান, সেভাবেই কাজ করা হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বাবুল আখতার বলেন, ‘২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিন বছর হিসাব করলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে পরবর্তী মজুরি নির্ধারণের সময় হবে। তাই নতুন মজুরি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করে পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘মজুরি বোর্ডের কাজ শুরু করতে কোনোভাবেই বিলম্ব করতে চাই না। প্রয়োজন হলে সারারাত বৈঠক করেও দ্রুত মজুরি নির্ধারণ করতে প্রস্তুত। বিভিন্ন জোট ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে। বোর্ডে আলোচনা করে সঠিকটা নির্ধারণ করা হবে।’
গবেষণা করে মজুরি নির্ধারণ করতে গেলে শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় মজুরি ৪৫ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বাবুল আখতার।
তিনি বলেন, ‘মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নই অমাদের প্রধান কাজ। কিন্তু ভাঙচুর, উৎপাদন বন্ধ এবং দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করে কোনো দাবি আদায় করা উচিত নয়। তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।’
আন্দোলনকে ঘিরে শ্রমিক ও নেতাদের আটক এবং হয়রানির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বাবুল আখতার বলেন, ‘মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অজুহাতে অনেক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেয়ার দায়ে আটক শ্রমিক ও নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলা ও আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’
এদিকে, শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক-তিন পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা।
মজুরি বাড়ানোর দাবিতে কয়েক দিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। পোশাকশ্রমিকরা রাজধানী এবং এর আশপাশের কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার (১ নভেম্বর) সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে প্রধান করে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। এতে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি রয়েছেন।
বোর্ডের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হলেন পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন (বিজিআইডব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন। আর নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।