
অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় রাজনৈতিক মহল: শ্রমমন্ত্রী
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২২

শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নিয়ে টঙ্গী সংলগ্ন তুরাগ নদে অভিযানে পিবিআই। ছবি: সময় সংবাদ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মৃত্যু ঘিরে তার ব্যবসায়িক অংশীদার শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের বয়ানে অসংগতি পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিচ্ছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এনায়েত হোসেন মান্নান।
তিনি বলেন, ‘দ্বীপ আমাদের জানিয়েছেন–ঘটনাস্থলে অন্ধকারে দুজনকে দেখে তারা পুলিশ মনে করে দৌড় দেন। এরপর তিনি তাহসিফকে হারিয়ে ফেলেন। তবে তাদের কেউ ধাওয়া দেয়নি। দ্বীপ একেক সময় একেক কথা বলছেন, তার এসব দাবি আমরা যাচাই করে দেখছি।’
পিবিআই সূত্রের খবর, দ্বীপের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গীর মাজার বস্তির হোন্ডা গলি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা নিখোঁজ তাহসিফের বলে নিশ্চিত করেন দ্বীপ নিজেই। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গী সংলগ্ন তুরাগ নদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় দ্বীপের সবশেষ অবস্থান টঙ্গীর মাজার বস্তিতে নিশ্চিত হওয়ায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেন, রাজধানীর উত্তরখান নয়, মূলত তারা মাজার বস্তি এলাকায় এসেছিলেন। সেখানে মোটরসাইকেল রেখে তুরাগ নদের কিনারায় যান। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে তাহসিফকে পেছনে ফেলেই তিনি বাসায় ফিরে যান।
দ্বীপের দেয়া এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পিবিআইয়ের ধারণা, টঙ্গীর মাজার বস্তিসংলগ্ন তুরাগ নদের পাড়েই তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। মূল রহস্য উন্মোচনে তারা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুরতহাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন। ওই দিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে জানান, বাসায় ফিরছেন; কিন্তু আর ফেরেননি। পরদিন বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি।
নৌ পুলিশের প্রস্তুতকৃত সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, হাত দুটি সামনের দিকে বাঁকা ও পেট ফোলা অবস্থায় নদী থেকে মরদেহটি পাওয়া যায়। তাহসিফের নাক দিয়ে রক্ত বের হলেও শরীরের অন্য কোথাও স্পষ্ট কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। স্বজনেরা উপস্থিত থেকে তার মরদেহ শনাক্ত করেন।