
শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৭

প্রতীকী ছবি
গাজীপুরে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আনোয়ার হোসেন নামে এক শিক্ষককে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ভিকটিম শিশুকে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এই রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত মো. আনোয়ার হোসেন খান শরীফপুর এলাকার মো. করিম খানের ছেলে ও ধানবাড়ী এলাকার আদর্শ শিশু কানন স্কুলের সহকারী শিক্ষক।
এ দিকে রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষ থেকে বিচারকের কাছে সময়ের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে সাজা ঘোষণা এবং সাজা পরোয়ানা জারি করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকালে গাজীপুরের গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর (ধানবাড়ী) এলাকার একটি স্কুলে যায় ওই ৬ বছরের শিক্ষার্থী। সে নার্সারি শ্রেণির ছাত্রী। সকাল সোয়া ৯টার দিকে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে গেলে শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান (২০) ওই শিশুটিকে স্কুলের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা ফরিদা বেগম (২৫) শিশুটিকে ক্লাস থেকে ডেকে অফিস কক্ষে নিয়ে যান। পরবর্তীতে এ ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। পরে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়।
ঘটনার পর ভিকটিম শিশুকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ৫ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের মা গাছা থানায় এজাহার দায়ের করেন।
মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে শরীফপুর এলাকার মো. করিম খানের ছেলে ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান এবং ঘটনার সহযোগিতার অভিযোগে ফরিদা বেগমকে আসামি করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে জারি করা সাজা পরোয়ানা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সেলিনা বেগম। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন ও জাকির কাদের।