
ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৬

হকার উচ্ছেদের পর ফুটপাতে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারছেন পথচারীরা। ছবি: সময় সংবাদ
উচ্ছেদ অভিযানের পর মিরপুর-১ নম্বর এলাকার সড়কে স্বস্তি ফিরেছে। উচ্ছেদ করা হকারদের শাহ আলী কাঁচাবাজারের পাশে পুনর্বাসনের চিন্তা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
প্রধান সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক। এ ছাড়া সড়কে অটোরিকশা ও লেগুনার জটলা দূর করতে ট্রাফিক বিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শাহ আলী মাজার থেকে মিরপুর ১ নম্বর পর্যন্ত সড়কের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল হকারদের দখলে। ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কেও বসত বাজার। এতে পথচারীদের চলাচলে তৈরি হতো চরম ভোগান্তি। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে প্রতিদিনই সৃষ্টি হতো যানজট, বাড়ত জনদুর্ভোগ।
তবে উচ্ছেদ অভিযানের পর ফুটপাত ফিরে পেয়েছেন পথচারীরা। কমেছে সড়কের কোলাহল, যানবাহন চলাচলেও ফিরেছে গতি। তবে প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে এখনও অটোরিকশা ও লেগুনার জটলা দেখা যাচ্ছে। ফলে যানজটের ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি।
সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা বলছেন, আগে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ ছিল না। রাস্তার অর্ধেকই দখল করে রাখতেন হকাররা। মিরপুরে প্রায় ১১ বছর ধরে বসবাস করছেন এমন একজন জানান, আগে কখনো জায়গাটি এতটা ফাঁকা দেখেননি। এখন মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন। পরিবেশও অনেক খোলামেলা লাগছে।
তবে হকার উচ্ছেদের পর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রিকশা নিয়ন্ত্রণের ওপরও জোর দিতে হবে। পথচারীদের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট। তাই এ পরিবর্তন ইতিবাচক।
অন্যদিকে, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি এলাকার সৌন্দর্য বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ফুটপাতের পাশে সারিবদ্ধভাবে লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
মিরপুরের হকারদের পুনর্বাসনে প্রাথমিকভাবে শাহ আলী কাঁচাবাজারের পাশে আড়তসংলগ্ন একটি জায়গা বিবেচনা করছে ডিএনসিসি। আগামী সপ্তাহে জায়গাটি পরিদর্শন করে সেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ হকারকে পুনর্বাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। হকারদের তালিকা হালনাগাদ করে নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে ব্যবসার সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসকের।
ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, মিরপুর ১ নম্বরের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য আড়তের পাশে কাঁচাবাজারসংলগ্ন একটি বড় জায়গা রয়েছে। সেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে জায়গা দেয়া সম্ভব হতে পারে। সেখানে সবাইকে পুনর্বাসন করা না গেলে দিয়াবাড়ির একটি জায়গাও বিবেচনায় নেয়া হবে। জায়গাটি পরিদর্শন করে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট চালুর পরিকল্পনাও করছে ডিএনসিসি। তবে প্রধান সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেয়া হবে না বলে আবারও সতর্ক করেছেন প্রশাসক।
সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের পর মিরপুরের সড়কে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে। আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে যান চলাচল। সড়ক ও ফুটপাতের সৌন্দর্য বাড়াতে লাগানো হচ্ছে গাছ। তবে এ পরিবর্তন ধরে রাখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।