
পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য: পানিসম্পদ মন্ত্রী
মহানগর ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৯

অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের পর চিরচেনা যানজট, হকারদের হাঁকডাক ও বিশৃঙ্খলা মুক্তি হয়েছে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা। ফুটপাত দিয়ে এখন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে হাঁটছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
দীর্ঘ ২০ বছর পর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হাত ধরে মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাতে হাঁটতে পেরে আবেগাপ্লুত শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এত বছরে কখনোই দুই সন্তানের হাত ধরে এই পথে হাঁটতে পারিনি। আজ পারছি, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ তার মতো হাজারো মানুষের মনে এখন একই স্বস্তি বিরাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ অহোনা জানান, আগে দোকানপাট ও ভিড় ঠেলে মেট্রোরেল স্টেশনে যেতে অনেক সময় লাগত এবং প্রায়ই ক্লাসে দেরি হতো; এখন কয়েক মিনিটেই পৌঁছানো যায়।
নর্থ সিটি কলেজের প্রভাষক আবু বক্কর এবং মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরাও এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের স্বীকৃতি দিয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
কিছুদিন আগেও মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও হোপ স্কুল রোডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে অবৈধ মার্কেট গড়ে উঠেছিল। বিশেষ করে হোপ স্কুল ও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলকে কেন্দ্র করে বসা দোকানপাটের কারণে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের তীব্র জট লেগেই থাকত। উচ্ছেদ অভিযানের পর সেই ফুটপাত এখন পুরোপুরি ফাঁকা। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত সড়ক ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার রাখছেন এবং ফুটওভার ব্রিজের নিচের অংশে গাছ লাগিয়ে নান্দনিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে জানান, নগরবাসী যেন স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদে পথ চলতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই উদ্যোগ কেবল মিরপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, উত্তর সিটির সব এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুনরায় দোকান বসালে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দখলমুক্ত ফুটপাতে স্বস্তির এই চিত্রে খুশি মিরপুরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, নগরীর প্রতিটি ফুটপাতই এভাবেই পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।