
মালদ্বীপে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রতীকী ছবি
কুয়েতে জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী কর্মী মোটরসাইকেলে খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন গ্রাহকের দোরগোড়ায়। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলা এসব ডেলিভারি কর্মীর আয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সড়কের ঝুঁকি এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা। গ্রাহকের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক সময় নিজের নিরাপত্তাই হয়ে পড়ে গৌণ। এমন বাস্তবতায় প্রাণ গেল এক প্রবাসী বাংলাদেশি ডেলিভারি কর্মীর।
কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস–এর ২৯ অক্টোবরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির আদান এলাকায় চারটি গাড়ির সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন এক বাংলাদেশি প্রবাসী। তিনি মোটরসাইকেলে ডেলিভারির কাজ করতেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপারেশনস রুম থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশি কর্মীকে আদান হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এক কুয়েতি আহত হন। সংঘর্ষে কাছের একটি বাড়ির সামনে পার্ক করা আরও দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝুঁকির মধ্যে প্রতিদিনের কর্মজীবন
কুয়েতে মোটরসাইকেলে ডেলিভারির কাজ প্রবাসীদের কাছে আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে এই পেশায় কর্মীদের দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হয়। ব্যস্ত সড়ক, দ্রুতগতির যানবাহন, হঠাৎ লেন পরিবর্তন, মোড়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং গাড়িচালকদের অসতর্কতা মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চার চাকার গাড়ির তুলনায় মোটরসাইকেলে চালকের সুরক্ষা সীমিত। ফলে সংঘর্ষের সময় গুরুতর আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হেলমেটসহ সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করলেও সব ধরনের দুর্ঘটনা থেকে প্রাণ রক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। বিশেষ করে গ্রাহকের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর চাপ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক অর্ডার সরবরাহের লক্ষ্য এবং আয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কোনো কোনো কর্মীকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও রাস্তায় থাকতে বাধ্য করতে পারে।