
মালদ্বীপে সার্কের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের ৩১ জন প্রতিনিধি
ওমর ফারুক খোন্দকার
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৪

বুধবার (৪ নভেম্বর) মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
মালদ্বীপে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রম ও প্রযুক্তিমন্ত্রী আলী ইহুসানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, অনথিভুক্তদের নিয়মিতকরণ, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, বেতন-ভাতা এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ সম্প্রসারণসহ প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালদ্বীপে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ৯৮ শতাংশের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এ অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম প্রবাসীদের আইনগত অবস্থান নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবা পাওয়ার পথ সহজ করবে।
অনথিভুক্ত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধকরণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও যেসব বিদেশি কর্মী বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, কিন্তু তাদের অভিবাসন বা চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র অসম্পূর্ণ, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিয়মিতকরণের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তারা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ, লেবার রিলেশনস অথরিটি অথবা সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়াও, নিয়োগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। একইসাথে কোনো কর্মী কর্মস্থল থেকে নিখোঁজ হলে কিংবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের বিষয়েও মন্ত্রী অবহিত করেন।
বৈঠকে প্রবাসীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও রেমিট্যান্স সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনার বলেন, অধিকাংশ বাংলাদেশি কর্মী পরিবারের সচ্ছলতার জন্য মালদ্বীপে কাজ করছেন। তাই তাদের উপার্জিত অর্থ বা রেমিট্যান্স নিরাপদে ও সহজে দেশে পাঠানোর সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ব্যাংক হিসাব খোলা, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং বেতনের একটি অংশ বাংলাদেশে স্থানান্তরের সুযোগ সম্প্রসারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এর পাশাপাশি নিয়োগচুক্তিতে উল্লেখিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তুলে ধরেন হাইকমিশনার।
বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আইল্যান্ড বা দ্বীপগুলোতে অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের তথ্য বিনিময় এবং বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, বৈধকরণ, কর্মীদের অধিকার ও সরকারি সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যৌথ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকটি উভয়ের মধ্যে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।