
নভেম্বরে রূপপুরের ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার চেষ্টা চলছে: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
শুভ খান
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩

মানসম্মত নেটওয়ার্ক নিশ্চিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ছবি: সময় সংবাদ
কাগজে-কলমে নেটওয়ার্ক কাভারেজ থাকলেও মিলছে না মানসম্মত মোবাইল সেবা। কলড্রপ আর ইন্টারনেটের ধীরগতিতে ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক। বাদ যাননি খোদ টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও। অথচ প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুতগতির সেবা নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এ অবস্থায় গবেষণার মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এসব এলাকায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেয়ার উপায় খুঁজতে কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। দেশের মোবাইল সেবার অবস্থা অনেকটা এমনই। বিটিআরসির নির্ধারিত সূচক অনুযায়ী, মোবাইলে কলড্রপের হার হতে হবে এক শতাংশ বা এর কম। গ্রাহকের পাঠানো মোট এসএমএসের অন্তত ৯৮ শতাংশ সফলভাবে প্রাপকের কাছে পৌঁছাতে হবে। আর ফোরজিতে ডাউনলোড গতি রাখতে হবে সাড়ে ৩ এমবিপিএসের বেশি।
তবে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সবশেষ সেবা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় সারা দেশেই টেলিটক ছাড়া নির্ধারিত ১২টি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে অন্য তিন মোবাইল অপারেটর। অথচ গ্রাহকের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, কোনো অপারেটরের সেবাতেই কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।
শুধু গ্রাহকই নয়, কলড্রপের ভোগান্তিতে খোদ টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টাও। রেহান আসিফ আসাদ বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে কথা বলতে গেলে কলড্রপ হয়।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শহর ও গ্রামে মানসম্মত টেলিকম সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। টেলিযোগাযোগ নীতিমালায়ও দুর্গম অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে তরঙ্গভিত্তিক প্রণোদনার কথা উল্লেখ আছে। এ অবস্থায় গবেষণার মাধ্যমে অপর্যাপ্ত ও নিম্নমানের সেবা পাচ্ছে এমন প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানসম্মত সেবা দেয়ার উপায়ও খুঁজবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিটি।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে মোবাইল অপারেটররা। গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহম্মদ বলেন, ‘এই উদ্যোগকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।’ বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘কারও নেটওয়ার্ক নেই। এসব ক্ষেত্রে একটিভ শেয়ারিং করে নেটওয়ার্ক চালু করা গেলে এটা ভালো হবে।’
বর্তমানে দেশে মোবাইল সিম সংযোগের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৯ কোটি, যার মধ্যে ১২ কোটি ২২ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক।