
নামাজের বৈঠকে কখন শাহাদাত আঙুল ইশারা করবেন?
মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১

হ্যালোইনে অনেকে ভূত, পিশাচ, ডাইনি, শয়তান কিংবা বিভিন্ন ভৌতিক চরিত্রের পোশাক পরেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ৩১ অক্টোবর হ্যালোইন উদ্যাপন করা হয়। এ উপলক্ষে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্করাও নানা ধরনের ভৌতিক পোশাক পরেন, ভূত-প্রেত ও ডাইনির সাজে সজ্জিত হন, বাড়িঘর সাজান এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কোথাও কোথাও শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি ও চকলেট সংগ্রহ করে, যা ‘ট্রিক অর ট্রিট’ নামে পরিচিত।
পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রচলিত এই উৎসব এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনজগতের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও পরিচিতি পাচ্ছে। ফলে মুসলিমদের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, হ্যালোইন আসলে কী? এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য কী? মুসলমানদের জন্য এ উৎসবে অংশ নেওয়া কি বৈধ, নাকি ইসলামের দৃষ্টিতে তা নিষিদ্ধ?
ইসলামে মুসলমানের জীবনযাপন, আচার-আচরণ ও উৎসব উদ্যাপনের ক্ষেত্রে নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় ও শরিয়তের বিধান অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই হ্যালোইনের ইতিহাস, এর প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠান এবং এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা জানা প্রয়োজন।
হ্যালোইন কী?
হ্যালোইন মূলত পাশ্চাত্যের একটি বার্ষিক উৎসব। ইংরেজি ‘হ্যালোইন’ শব্দটি ‘অল হ্যালোজ ইভ’ থেকে এসেছে। খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যে ১ নভেম্বর পালিত ‘অল সেইন্টস ডে’ বা সাধুদের স্মরণ দিবসের আগের সন্ধ্যাকে বলা হতো ‘অল হ্যালোজ ইভ’। পরবর্তী সময়ে এই নাম সংক্ষিপ্ত হয়ে হ্যালোইন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বর্তমানে ৩১ অক্টোবর রাতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে হ্যালোইন উদ্যাপন করা হয়। এ উৎসবে কুমড়ো খোদাই করে ভীতিকর মুখ তৈরি করা, বাড়িঘর সাজানো, ভূত-প্রেত ও ডাইনির পোশাক পরা, মুখোশ ব্যবহার, ভৌতিক গল্প বলা এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিশুদের মধ্যে ‘ট্রিক অর ট্রিট’ বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এ প্রথায় শিশুরা বিভিন্ন পোশাক পরে প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টি বা চকলেট চায়। এ ছাড়া অনেক জায়গায় হ্যালোইন পার্টি, সাজসজ্জা প্রতিযোগিতা ও ভৌতিক পরিবেশ তৈরির আয়োজন করা হয়।
যদিও বর্তমানে অনেকেই হ্যালোইনকে নিছক বিনোদন ও সামাজিক আয়োজন হিসেবে দেখেন, এর পেছনে প্রাচীন ইউরোপীয় লোকাচার এবং খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে।
হ্যালোইন উৎসবের ইতিহাস কী?
হ্যালোইনের ইতিহাস বুঝতে হলে প্রাচীন ইউরোপের সেল্টিক জনগোষ্ঠীর ‘সামহেইন’ উৎসবের কথা জানতে হয়। ঐতিহাসিকভাবে সামহেইন ছিল সেল্টিক জনগোষ্ঠীর একটি মৌসুমি উৎসব। তাদের বর্ষপঞ্জিতে এটি গ্রীষ্মকালীন সময়ের সমাপ্তি এবং শীতের সূচনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
প্রাচীন সেল্টিকদের কিছু বিশ্বাসে এ সময় জীবিত মানুষ ও মৃতদের জগতের মধ্যকার সীমারেখা দুর্বল হয়ে আসে বলে ধারণা করা হতো। এ বিশ্বাসের সঙ্গে বিভিন্ন আচার ও লোককথা যুক্ত ছিল। তবে হ্যালোইনের সব আধুনিক প্রথা সরাসরি সামহেইন থেকে এসেছে এমন দাবি করার মতো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
পরবর্তী সময়ে খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় বর্ষপঞ্জিতে ১ নভেম্বর ‘অল সেইন্টস ডে’ এবং এর আগের সন্ধ্যার প্রচলন হ্যালোইনের বিকাশে ভূমিকা রাখে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন লোকাচার, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক রীতির সংমিশ্রণে উৎসবটির বর্তমান রূপ গড়ে উঠেছে।
বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় অভিবাসীদের মাধ্যমে হ্যালোইনের প্রচলন বিস্তৃত হয়। বর্তমানে অনেক দেশে এটি সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। তাই আধুনিক হ্যালোইনের প্রতিটি অংশকে প্রাচীন ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচনা করা যেমন যথাযথ নয়, তেমনি এর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পটভূমিও উপেক্ষা করা যায় না।
ইসলামে হ্যালোইন পালন করা কি হারাম?
ইসলামে হ্যালোইন পালনের বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেখতে হবে, এর কোন কাজটি করা হচ্ছে, কাজটির ধর্মীয় তাৎপর্য কী এবং তাতে কোনো নিষিদ্ধ বিশ্বাস বা আচরণ রয়েছে কি না।
যদি কেউ হ্যালোইন উপলক্ষে শিরক, শয়তানের উপাসনা, মৃত আত্মাকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে কোনো ধর্মীয় আচার কিংবা অন্য কোনো স্পষ্ট হারাম কাজে অংশ নেন, তাহলে তা ইসলামে নিষিদ্ধ। একইভাবে অন্য ধর্মের স্বতন্ত্র ধর্মীয় উৎসবকে নিজেদের উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাতে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশকারী আচার পালন করার বিষয়টিও বহু আলেম নিষিদ্ধ বলে বিবেচনা করেন।
আবার কেউ যদি হ্যালোইনকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখেন, তবুও উৎসবটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, প্রচলিত প্রথার ধরন এবং তাতে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য বিবেচনা করতে হবে। এ বিষয়ে সমসাময়িক আলেমদের আলোচনায় মূলত অন্য ধর্মের উৎসবের অনুকরণ ও তাতে অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সুতরাং হ্যালোইনকে নিছক আনন্দের উপলক্ষ মনে করলেই এর প্রতিটি আয়োজন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। মুসলমানদের জন্য এ উৎসবের স্বতন্ত্র রীতিনীতি ও উদ্যাপনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকাই সতর্কতাপূর্ণ অবস্থান।
অন্য ধর্মের উৎসবে অংশগ্রহণ সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা
ইসলামে মুসলমানের স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা এবং অন্য ধর্মের বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অনুকরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, প্রত্যেকের জন্য আমি তোমাদের মধ্য থেকে একটি শরিয়ত ও একটি সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি। (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত ৪৮)
এ আয়াত বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের কথা তুলে ধরে। তবে শুধু এ আয়াতের ভিত্তিতে হ্যালোইনের সরাসরি বিধান নির্ধারণ করা যথাযথ নয়; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাদিস, ফিকহি নীতিমালা এবং উৎসবটির প্রকৃতিও বিবেচনা করতে হয়।
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১)
হাদিসটি অন্য সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য অনুকরণের বিষয়ে আলেমদের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এর প্রয়োগ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুকরণের ধরন, উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট কাজটির ধর্মীয় বা সামাজিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
হ্যালোইনে শিশুদের মিষ্টি বা চকলেট দেয়া কি হারাম?
হ্যালোইনের একটি পরিচিত প্রথা হলো ‘ট্রিক অর ট্রিট’। এ প্রথায় শিশুরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি বা চকলেট সংগ্রহ করে। কোনো মুসলিম পরিবার যদি এ উপলক্ষে নিজেদের বাড়িতে হ্যালোইনের সাজসজ্জা করে শিশুদের স্বাগত জানায় কিংবা উৎসবের অংশ হিসেবে মিষ্টি বিতরণ করে, তাহলে তা উৎসবে অংশগ্রহণের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ কারণে বহু আলেম এ ধরনের আয়োজন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
তবে সাধারণভাবে কাউকে খাবার দেওয়া বা শিশুকে মিষ্টি উপহার দেওয়া নিজেই হারাম নয়। ইসলামে দান, উপহার ও মানুষের সঙ্গে সদাচরণের অনুমতি রয়েছে। এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো, মিষ্টি দেওয়াটি কি হ্যালোইন উৎসব উদ্যাপনের অংশ, নাকি কোনো উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছাড়াই সাধারণ সৌজন্য বা মানবিক সহযোগিতা।
অতএব, হ্যালোইনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়ে মিষ্টি বিতরণ করা এবং কোনো শিশুকে সাধারণভাবে খাবার উপহার দেওয়া দুটিকে একই বিধানের আওতায় ফেলা ঠিক নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধান নির্ধারণ করতে হবে।
হ্যালোইনের পোশাক পরা কি জায়েজ?
হ্যালোইনে অনেকে ভূত, পিশাচ, ডাইনি, শয়তান কিংবা বিভিন্ন ভৌতিক চরিত্রের পোশাক পরেন। কেউ কেউ আবার জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের চরিত্রের সাজও ধারণ করেন।
যদি পোশাকের মাধ্যমে শিরক, শয়তানের উপাসনা, কুফরি বিশ্বাস কিংবা ইসলামে নিষিদ্ধ কোনো বিষয়ের প্রকাশ ঘটে, তাহলে তা পরিহার করা আবশ্যক। একইভাবে হ্যালোইনের স্বতন্ত্র উৎসবের অংশ হিসেবে এ ধরনের পোশাক পরা অন্য ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উৎসবের অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; এ কারণেও বহু আলেম তা নিষিদ্ধ মনে করেন।
তবে সাধারণ পোশাক পরা, শিশুদের স্বাভাবিক সাজসজ্জা করা কিংবা কোনো চরিত্রের পোশাক পরার বিধান নির্ধারণে পোশাকের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। সব ধরনের মুখোশ বা কল্পকাহিনির চরিত্রের পোশাককে একইভাবে শিরক বলা সঠিক নয়।
হ্যালোইন পার্টিতে অংশ নেওয়া কি হারাম?
হ্যালোইন উপলক্ষে আয়োজিত পার্টিতে সাধারণত ভৌতিক সাজসজ্জা, বিশেষ পোশাক, বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং কখনো কখনো ধর্মীয় বা কুসংস্কারমূলক বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত আয়োজন থাকে।
যদি কোনো অনুষ্ঠানে শিরক, হারাম বিনোদন, অশ্লীলতা কিংবা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কাজ থাকে, তাহলে তাতে অংশ নেওয়া বৈধ নয়। আর অনুষ্ঠানটি হ্যালোইনের স্বতন্ত্র উৎসব উদ্যাপনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত হলে, সেখানে ধর্মীয় আচার না থাকলেও উৎসবটির অংশগ্রহণ হিসেবে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বহু আলেম নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
ইসলামে বৈধ বিনোদনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিনোদনের নামে নিষিদ্ধ বিশ্বাস বা আচরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া উচিত নয়। তাই মুসলমানদের জন্য হ্যালোইন পার্টির পরিবর্তে বৈধ ও কল্যাণকর সামাজিক আয়োজন বেছে নেওয়া উত্তম।
স্কুলে হ্যালোইন আয়োজন হলে মুসলিম শিশুরা কী করবে? কিছু দেশে স্কুলে হ্যালোইন উপলক্ষে পোশাক পরা, ছবি তোলা কিংবা মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়। এ অবস্থায় মুসলিম অভিভাবকদের উচিত সন্তানের ধর্মীয় পরিচয় ও মূল্যবোধ সম্পর্কে তাকে বোঝানো।
স্কুলে কোনো আয়োজন থাকলেই শিশুকে সব কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে, এমন নয়। অভিভাবকেরা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে বিকল্প কার্যক্রমের ব্যবস্থা করতে পারেন। শিশুকে অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি অসম্মান শেখানোর পরিবর্তে নিজের ধর্মীয় নীতিমালা অনুসরণ এবং অন্যের প্রতি সদাচরণ দুটিই শেখানো প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে স্কুলের কার্যক্রমের ধরন এবং শিশুর অংশগ্রহণের প্রকৃতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মুসলমানদের উৎসব কোনগুলো?
ইসলামে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. মদিনায় এসে দেখলেন, সেখানকার লোকেরা দুটি দিনে খেলাধুলা ও আনন্দ-উৎসব করে। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমাদের এ দুটি দিনের পরিবর্তে আরও উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১১৩৪)
এ হাদিস মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবের স্বাতন্ত্র্য বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, মুসলমানেরা অন্য মানুষের সঙ্গে সাধারণ সামাজিক সম্পর্ক, সদাচরণ কিংবা বৈধ সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। বরং ধর্মীয় উৎসবের অনুকরণ এবং সাধারণ সামাজিক সৌজন্যের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে।
হ্যালোইন আধুনিক বিশ্বে বহুল পরিচিত একটি উৎসব, যার ইতিহাসে প্রাচীন সেল্টিক লোকাচার ও খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের প্রভাব রয়েছে। বর্তমানে অনেকেই এটিকে নিছক বিনোদন হিসেবে পালন করলেও এর প্রচলিত রীতিনীতির সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক, কুফরি বিশ্বাস ও নিষিদ্ধ আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ স্পষ্টতই হারাম। অন্য ধর্মের স্বতন্ত্র ধর্মীয় উৎসবের অনুকরণ এবং হ্যালোইন উদ্যাপনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও বহু আলেম নিষিদ্ধ বলে বিবেচনা করেন। তাই মুসলমানদের উচিত এ উৎসবের বিশেষ আয়োজন থেকে বিরত থাকা এবং নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও মূল্যবোধ বজায় রাখা।