
ক্ষীর সন্দেশ তৈরির সহজ রেসিপি
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২

ঘুমের সময় ফোন ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছবি: সংগৃহীত
ঘুমানোর আগে শেষ কাজ এবং ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম কাজ—মোবাইল ফোন চেক করা। এমন অভ্যাস এখন অনেকেরই। কেউ বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমান, কেউ রাখেন বালিশের নিচে, আবার কেউ সারা রাত বিছানার পাশে ফোন চার্জে দিয়ে রাখেন। অ্যালার্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা জরুরি কলের জন্য ফোন কাছে রাখাকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেন।
তবে ঘুমের সময় ফোন কোথায় রাখছেন, কীভাবে ব্যবহার করছেন এবং সেটি চার্জে আছে কি না—এসব বিষয় ঘুমের মান ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বালিশের পাশে ফোন রাখলেই বড় কোনো রোগ হবে, এমন প্রমাণ নেই। কিন্তু কিছু অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি।
১. ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে
বালিশের পাশে ফোন থাকলে বারবার নোটিফিকেশন দেখা, মেসেজের উত্তর দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে ঘুমাতে যেতে দেরি হয় এবং পর্যাপ্ত ঘুমের সময় কমে যায়। এ ছাড়া ফোনের শব্দ, কম্পন কিংবা স্ক্রিনের আলো ঘুমের মধ্যে জাগিয়ে দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে।
২. স্ক্রিনের আলো ঘুম আসতে দেরি করাতে পারে
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে, বিশেষ করে উজ্জ্বল আলোতে, শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দে প্রভাব পড়তে পারে। স্ক্রিনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে বাধা দিতে পারে, যা ঘুম আসার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শুধু নীল আলোই দায়ী নয়। ফোনে কী দেখছেন, কতক্ষণ ব্যবহার করছেন এবং কতটা মানসিকভাবে উত্তেজিত হচ্ছেন, সেসবও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে।
৩. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়তে পারে
ঘুমানোর আগে খবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক, কাজের ইমেইল কিংবা উদ্বেগজনক কোনো বিষয় দেখলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। এতে মন শান্ত হতে দেরি হতে পারে। এ ছাড়া রাতে বারবার ফোন চেক করার অভ্যাস তৈরি হলে ফোন থেকে দূরে থাকলেও অস্থিরতা অনুভূত হতে পারে। নিয়মিত ভালো ঘুমের জন্য ঘুমানোর আগে কিছুটা সময় ফোনমুক্ত থাকা উপকারী।
৪. মোবাইলের বিকিরণ কি ক্যানসারের কারণ?
বালিশের পাশে ফোন রাখার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে প্রচলিত উদ্বেগগুলোর একটি। মোবাইল ফোন রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। এই তরঙ্গ আয়নাইজিং বিকিরণ নয়; এক্স-রে বা গামা রশ্মির মতো সরাসরি পরমাণু থেকে ইলেকট্রন বিচ্ছিন্ন করার শক্তি এর নেই।
বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণে শুধু ঘুমানোর সময় বালিশের পাশে ফোন রাখার কারণে ক্যানসার হয়—এমন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের সব সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলমান। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে ক্ষতিকর বা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত—কোনোটিই বলা ঠিক নয়।
৫. বালিশের নিচে ফোন রেখে চার্জ দেওয়া বিপজ্জনক
ফোনের বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগের চেয়ে এখানে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন গরম হতে পারে। সেটি বালিশ, কম্বল বা বিছানার চাদরের নিচে রাখলে তাপ বের হতে বাধা পেতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি, ত্রুটিপূর্ণ চার্জার কিংবা নিম্নমানের চার্জিং সরঞ্জাম ব্যবহার করলে অতিরিক্ত গরম হওয়া, আগুন লাগা বা দগ্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই ফোন কখনো বালিশের নিচে বা বিছানার ওপর রেখে চার্জ দেবেন না। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী শক্ত, সমতল ও তাপ বের হতে পারে—এমন জায়গায় ফোন চার্জ দিন।
৬. সকালে ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা হতে পারে
রাতে ফোন ব্যবহারের কারণে ঘুম কম হলে সকালে ঘুম ঘুম ভাব, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং কাজে ভুল করার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন অপর্যাপ্ত ঘুম চলতে থাকলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে বালিশের পাশে ফোন রাখাই এসব সমস্যার সরাসরি কারণ নয়; মূল বিষয় হলো ফোন ব্যবহারের অভ্যাস এবং তার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে কি না।
কীভাবে নিরাপদে ঘুমাবেন?
ঘুমের সময় ফোন ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুলুন—
ঘুমানোর অন্তত ৩০–৬০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
ফোনটি বালিশের পাশে না রেখে বিছানা থেকে কিছুটা দূরে রাখুন।
অ্যালার্মের প্রয়োজন হলে ফোনটি শক্ত ও নিরাপদ জায়গায় রাখুন।
রাতে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোড ব্যবহার করুন।
বালিশ, কম্বল বা বিছানার নিচে ফোন রেখে চার্জ দেবেন না।
জরুরি যোগাযোগের প্রয়োজন না থাকলে রাতে ফোনের ব্যবহার সীমিত করুন।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)