
এয়ার ফ্রান্সের বিমানে ৩১ মুসলিমপ্রধান দেশের পাইলট-ক্রু নিষিদ্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৬

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই আত্মপ্রকাশ করেছে ‘মাছি জনতা পার্টি’। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ ‘মাছি জনতা পার্টি’ (এমজেপি)। ইনস্টাগ্রামভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মটি চালুর মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৪০ লাখের বেশি ভিউ এবং ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি অনুসারী পেয়েছে।
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এমজেপি জানিয়েছে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথ কর্মসূচির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তারা। সম্প্রতি যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী নেহা বোরার প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং সিজেপির দুই নেতাকে আটকের সমালোচনা করে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি।
মাছি জনতা পার্টি মূলত ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম। ডিজিটাল রেকর্ড অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি ২০২১ সালের জুনে তৈরি হলেও অন্তত আটবার নাম পরিবর্তনের পর বর্তমানে ‘makhijantaparty.ig’ নাম ব্যবহার করছে।
আর্যন নামের এক শিক্ষার্থী নিজেকে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সম্প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশনের শুনানি হয়। এতে সিজেপির ১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত দিল্লি অচল কর্মসূচির আগে রাজধানীতে ইন্টারনেট, মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করা হয়।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দেন, নিরাপত্তার প্রয়োজনে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, তবে পুরো ব্যবস্থা অচল করে দেয়া যায় না। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘একটা মাছি মারতে তো আর হাতুড়ি ব্যবহার করা চলে না।’
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ব্যঙ্গাত্মক প্রচার শুরু করে এমজেপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সংগঠনটি লেখে, ‘খোদ প্রধান বিচারপতিই যখন বলেছেন মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যাবে না, তখন সেই মাছিই এবার গর্জে উঠে বলছে, সে-ও কারও চেয়ে কম নয়!’
এর আগে গত মে মাসে একটি শুনানির সময় বেকার তরুণদের একাংশকে ‘ককরোচ’ বা আরশোলার সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ ওঠে শীর্ষ আদালতের বিরুদ্ধে। এরপরই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
পরবর্তী সময়ে প্ল্যাটফর্মটি বড় পরিসরে পরিচিতি পায়। পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। তবে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন না করা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি বাতিল করে।
ভারতের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এমজেপি। একই সঙ্গে আইন মেনে দায়িত্বশীলভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে জোর করে প্রবেশ করে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করে পুলিশ। তাদের আটকের নিন্দা জানিয়ে এমজেপি প্রশ্ন তুলেছে, ‘যন্তর মন্তরের মতো নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলেই যদি কথা বলতে দেয়া না হয়, তবে গণতন্ত্রের অর্থ কী?’
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস